শ্রমিককে রড দিয়ে পিটিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি পুলিশ, নিয়ম লঙ্ঘনে তাকে বাধা দেওয়া যাবে না।
তিনি যশোরের নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের সার্জেন্ট পলিটন মিয়া।
তার মারধরে গুরুতর আহত হয়েছে সিরাজুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা-বেনাপোল সড়কের শংকরপুর টার্মিনালের পাশে চাকলাদার ফিলিং স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সিরাজুলকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি খুলনা বেনাপোল সড়ক উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্সের সিগন্যাল ম্যান।
মারধরের ঘটনার পর সড়কের উন্নয়নকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা সড়কের মাটি খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর আড় করে দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
এ ঘটনায় ওই সড়কে আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক উন্নয়নকাজের জন্য সড়কের একপাশ খোঁড়া হচ্ছে। এ কারণে সড়কের অপর পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একসঙ্গে দুই পাশের গাড়ি চলাচল করলে জট লেগে ভোগান্তি হবে, তাই একপাশে যানবাহন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে আরেক পাশ উন্মুক্ত করে যান চলাচলের ব্যবস্থা করেন তারা।
তিনি জানান, ঘটনার সময় যশোরের দিকের গাড়ি ছেড়ে খুলনার দিকের গাড়ি বন্ধ করি। সব গাড়ি পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় নিয়মভঙ্গ করে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার।
‘‘এ সময় আমি ওই গাড়ির চালককে বলি ‘ভাই একটা মিনিট পরে যান। আপনি যদি সামনে যান সবার ভোগান্তি হবে। কেউই বের হতে পারবে না।’ এই বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়ি থেকে নেমে হাতে থাকা একটি কভার পরানো লোহার রড দিয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। আমার বাম হাত, বাম পায়ের বিভিন্ন স্থানে অনেক মেরেছে। এখন আমি যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না।’’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুল হাসান তুহিন বলেন, ‘তার বাম হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। তার বাম পায়ের আঘাত গুরুতর হতে পারে।’
এ ব্যাপারে মাহবুব ব্রাদার্সের সুপারভাইজর জুম্মন শেখ জানান, ঘটনা জেনে পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের ডেকেছিলেন। তারা সব শুনেছেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সার্জেন্ট পলিটন মিয়া বলেন, ‘আমি মুড়লি মোড় থেকে ফিরছিলাম। এ সময় আমি গাড়ি ব্রেক করি। সে হয়তো মনে করেছিল আমি গাড়ি টান দিয়ে চলে যাব। সে ওইসময় আমার গাড়িতে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারে। এতে আমারও রাগ হয়। সত্যি বলতে আমিও তখন লাঠি দিয়ে তার হাতে একটি বাড়ি মারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে এডিশনাল এসপি স্যার আমাকে তার অফিসে ডেকেছিলেন। তিনি সব শুনেছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।’