বিজেপিবিরোধী মহাজোট গঠনের চেষ্টা

ভারতে আজ চলছে লোকসভা নির্বাচনের শেষ অর্থাৎ সপ্তম ধাপের ভোটগ্রহণ। এই ধাপকে সামনে রেখেই গতকাল শনিবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বে বিজেপিবিরোধী মহাজোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, চন্দ্রবাবু নাইডু গতকাল শনিবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন জোটের ব্যাপারে আলোচনার জন্য। রাহুল গান্ধী ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতীসহ বেশ কিছু বিরোধী দল ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিজেপিবিরোধী জোট গঠনকে

সর্বাগ্রে জায়গা দেওয়া হবে।

আগামী ২৩ মে নির্বাচনী ফল ঘোষণার আগে ২১ মের সম্ভাব্য বৈঠক সামনে রেখে বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে কাছে আনার চেষ্টা করছেন নাইডু। বৃহত্তর জোট গঠনের লক্ষ্যে কমিউনিস্ট পার্টি, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলোও থাকছে সেই ঐক্য প্রক্রিয়ায়। তবে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও বিরোধী জোট গঠন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কয়েকটি আঞ্চলিক পার্টি। যদিও এমন দাবি হালে পানি পায়নি। কারণ মায়াবতী ও অখিলেশ আগে থেকেই বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসের সঙ্গেও প্রয়োজনে জোটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

গত শুক্রবার মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চন্দ্রবাবু। বৈঠকে নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এনডিটিভি জনিয়েছে, নাইডু ৮ মে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন আর ২১ মে বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় একমত পোষণ করেন। ১৮ মে শনিবার নাইডু সম্ভবত দিল্লিতে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতীর সঙ্গে লক্ষ্মৌতে বৈঠক করেন।

টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু বলেছেন, বিজেপিবিরোধী যেকোনো দলকেই বৃহত্তর জোটে স্বাগত জানানো হবে। গত শুক্রবার তিনি ইঙ্গিত দেন প্রয়োজনে নিজেদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) সঙ্গেও জোট গঠন করবেন। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তরফে নাইডুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে সক্রিয় টিআরএস যদি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয় তাহলে কী হবে? জবাবে নাইডু বলেন, ‘আমরা কেবল টিআরএস-কে নয় বিজেপি বিরোধী যেকোনো দলকেই স্বাগত জানাব। এ ধরনের সব দলকেই আমাদের বৃহত্তর জোটের অংশ হতে স্বাগত জানাব। তিনি বলেন, আমি সবার সঙ্গেই বৈঠক করছি। সব নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর একটি পরিকল্পনা করব।’

তবে মহাজোটের এই পরিকল্পনায় শরিক হবে না বলে জানিয়েছে টিআরএস। প্রেসিডেন্ট চন্দ্রশেখর রাও এর আইন প্রণেতা বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করতে আগামী ২১ মে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের অংশ হবে না টিআরএস। বিনোদ কুমার বলেন, চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কোনো বৈঠকের অংশ হতে পারব না আমরা। বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টায় মূল ভূমিকা পালন করছেন নাইডু। তবে তার এই ভূমিকাকে ‘স্বঘোষিত’ বলে দাবি করেন বিনোদ কুমার।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় কংগ্রেসকে বাদ রেখে শুধু আঞ্চলিক দলগুলোর পক্ষে জোট বেঁধেও অন্তত ২৭২ আসন নিয়ে সরকার গঠন যেমন কঠিন, তেমনি কংগ্রেস এবং তার ইউপিএ শরিকরা মিলে ২৭২ আসন জিতে সরকার গড়তে পারবে, তেমনটাও এখনই জোর দিয়ে বলা যায় না। তাই মোদিকে হারিয়ে বিকল্প একটি সরকার গড়তে হলে কংগ্রেসের সঙ্গে অন্য বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোর মহাজোটকেই কাযডৃকরী বলছেন বিশ্লেষকরা।

মমতা ব্যানার্জির ডাকে ২৩টি বিরোধী দলের সভায় যোগ দিয়েছে কংগ্রেস। যে সব রাজ্যে বিজেপির মোকাবিলায় কংগ্রেস প্রধান শক্তি, সেখানে তাদের এগিয়ে দিয়ে অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার তাত্ত্বিক ফর্মুলা সর্বত্র কাজ করেনি।