আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পাচ্ছেন পরিচয়পত্র

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র পাচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের এ পরিচয়পত্র সরবরাহ করবে।

ইউএনএইচসিআর বলছে, গত শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশে আড়াই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নিবন্ধন করা হয়েছে। তাদের প্রথম ধাপে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের এ নিবন্ধন মানবপাচারের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আগে থেকেই ৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রিত ছিলেন।

ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেসিক বলেন, আড়াই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী যৌথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ কর্র্তৃপক্ষ ও ইউএনএইচসিআর তাদের পরিচয়পত্র সরবরাহ করবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুনে। তারা যাতে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন সেই অধিকারের পক্ষে এই নিবন্ধন একটি সেফগার্ড হিসেবে কাজ করবে।

গত বছর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য চুক্তি হয়; যাতে প্রতি সপ্তাহে ১৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিয়ানমারের অসহযোগিতায় বিষয়টা এখনো ঝুলে আছে। এ প্রেক্ষাপটে ১২ বছরের বেশি বয়সী রোহিঙ্গাদের দেওয়া হচ্ছে নতুন এই পরিচয়পত্র। এতে নাম, পারিবারিক সম্পর্ক, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের প্রতিচ্ছবিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। আর রোহিঙ্গাদের দেশ হিসেবে মিয়ানমারের নাম নিবন্ধিত হয়েছে।