চট্টগ্রামের ইফতার

মেজবানি মাংসের কদর বেশি

মিষ্টি জিরা, পোস্তদানা, নারিকেল-বাদাম বাটা ও নানা মসলার সঙ্গে বিশেষভাবে সরিষার তেল মিশিয়ে রান্না হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির মাংস। রান্নায় উপাদান কম বেশি হলে এই মাংসের কাক্সিক্ষত স্বাদ পাওয়া যায় না। পরিমাণমতো মসলার মাধ্যমে রান্না করা হলেই এর স্বাদ অনন্য। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রোজায় ইফতারেও মেজবানির মাংসের চাহিদা বেড়েছে। প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

রোজায় চাহিদাকে কেন্দ্র করেই নগরের রেস্তোরাঁর পাশাপাশি বিভিন্ন নামিদামি হোটেলেও ইফতারের আইটেম হিসেবে আছে মেজবানির মাংস। বিশাল আকৃতির পাতিলে রান্না করে এসব মাংস কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বরাবরের মতোই ইফতারি কিনতে বিকেল থেকে নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, স্টেডিয়ামপাড়া, বাটালি রোড, লালখানবাজার, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামিদামি হোটেল, রেস্তোরাঁয় ক্রেতারা ভিড় করেন। এর মধ্যে লালখান বাজারের হাইওয়ে সুইটস, পিটস্টপ, এনায়েত বাজারের রয়েল সুইটস, স্টেডিয়াম সংলগ্ন রোদেলা বিকেল, রেড চিলি, জিইসি মোড়ের পেনিনসুলা ও পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেলে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপি, চিকেন কাবাব, চিকেন ফ্রাই, হালিমের সঙ্গে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি মাংসও বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নগরের আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, জিইসি মোড়. চকবাজার, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালি, রেয়াজউদ্দীনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেলগুলো মেজবানির মাংস বিক্রি করছে।

নগরের কাজির দেউড়ির স্টেডিয়াম এলাকায় সাইফুল নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘ইফতারের নানা খাবারের পাশাপাশি হালিমের পরিবর্তে মেজবানি মাংস কিনতে এলাম। এই মেজবানি মাংসের স্বাদ অনন্য। যে কেউ এই মাংস রান্না করতে পারে না। তা ছাড়া কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া তো বাসা-বাড়িতে মেজবানি মাংস রান্না করা সবার সম্ভব হয় না। তাই এই রমজানে ইফতারির সঙ্গে মেজবানি মাংস কিনে খাচ্ছি।’

দি পেনিনসুলা চিটাগংয়ের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইফতার সেট মেন্যুর পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় বুফের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অন্যান্য মেন্যুর চেয়ে মেজবানির মাংসের চাহিদাটা বেশি।’ দিন দিন চাহিদা আরও বাড়ছে বলে জানান তিনি।