‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’

মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা তদন্তে ২ কমিটি

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বহুতল আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র সরবরাহে যে অনিয়ম হয়েছে তা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পটির ওই অনিয়ম নিয়ে গত ১৬ মে দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকেও    

 বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার উচ্চপর্যায়ের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। কমিটি দুটিকে আগামী সাত কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় রূপপুরের আসবাবপত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ছয়টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্যাকেজগুলোর প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় গণপূর্ত অধিদপ্তর অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করে। এ ক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উল্লেখ্য, আলোচ্য কাজের বিপরীতে ঠিকাদারকে পুরোপুরি বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

দেশ রূপান্তরে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রূপপুরের ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান (পরিকল্পনা বিভাগ) মো. নজরুল ইসলাম ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অডিট) আবদুর রহিম রিপন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. মঈনুল ইসলামকে ও সদস্য সচিব করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সৈয়দ আবদুল হাফিজকে। সদস্য করা হয়েছে সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মনিটরিং ও অডিট) মো. সাঈদ মাহবুব মোরশেদকে।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার নিচে থাকা প্রকল্পে সব ধরনের অনুমোদন পূর্ত অধিদপ্তরই দিয়ে থাকে। এখানে ছয়টি ভাগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে; যার সবকটিই ৩০ কোটি টাকার নিচে। তাই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে আসেনি। এরপরও আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে বহুতল আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র ক্রয় ও সেগুলো ভবনে তোলার বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এ কাজটি আমি দায়িত্ব নেওয়ার আরও এক বছর আগের। বিষয়টি আমারদের নজরে আসার পর দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপাতত কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।’