নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন জমির মালিকরা। অধিগ্রহণের মোট টাকার ১০ থেকে ১৫ পারসেন্ট ঘুষ না দিলে মিলছে না ক্ষতিপূরণের চেক। যারা এ টাকা দিতে পারছেন, তারাই চেক পাচ্ছেন। বাকিরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার।
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করলেও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন অন্তর্ভুক্ত এলাকার বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপন করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি মৌজায় ২৩ দশমিক ২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে। উক্ত অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন জমির মালিকরা। কিন্তু অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে কোনোভাবেই তাদের আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে না। ফলে দিনের পর দিনে ঘুরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন না জমির মালিকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জমির মালিক জানান, সার্ভেয়ারসহ কয়েকজন তাদের কাছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে টাকা দাবি করেছেন। অনেকে তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা দিয়ে আবেদন মঞ্জুর করে নিয়েছেন। কিন্তু আমরা টাকা না দেওয়ায় ক্ষতিপূরণের চেক পাচ্ছি না। তারা বলেন, বর্তমানে আমাদের কাছে ওই পরিমাণ টাকা নেই। আমরা ওই টাকা জোগাড় করতে না পেরে দিনের পর দিন ঘুরছি। জমি বিক্রি ছাড়া আমাদের পক্ষে ওই পরিমাণ টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমানে জমি সরকারের হওয়ায় তা বিক্রি করাও অসম্ভব।
জালকুড়ি এলাকার কামাল মোল্লা ও শাহজাহান খোকন দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের সাড়ে ১২ শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় কোটি টাকার বিল আসে। এ বিল দিতে তাদের কাছে ১০% অর্থ দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আমরা ৮% হিসাবে ১২ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছি। কিন্তু গত ১০ দিনেও আমাদের আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়নি।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রাব্বি মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সারাওয়াত মেহজাবীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।