বহুদিন পরে মেয়ের ধর্ষকের খোঁজ পেল ভিক্ষুক বাবা-মা। পরে স্থানীয় জনতাসহ ধর্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে আটক করে সোমবার দুপুরে চাঁদপুর আদালতে পাঠালে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায়। ধর্ষক মো. মোজাম্মেল হক শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও মোহাম্মদ জাফর আলীর ছেলে। সে চাঁদপুর সদর উপজেলার দেবপুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন। ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।
ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ধর্ষিতা ছাত্রীর মা রোববার রাতে বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতা মেয়ের বাবা অন্ধ। সে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে দিনের বেলায় বিভিন্ন বাজারে ভিক্ষা করে সংসার চালায়।
পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে হাজীগঞ্জ বাজারে ধর্ষক ইমাম কে চিনতে পেরে ঘাপটি মেরে ধরে মেয়েটির মা ও বাবা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা।
ধর্ষিতা ছাত্রীর মা জানায়, বাড়ির পাশের মসজিদে ইমাম ছিল মোজাম্মেল। তার মেয়ে ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ায় মোজাম্মেল তাকে ইংরেজি পড়ানোর কথা বলে। পরে মেয়েটিকে পড়ানোর কথা বলে গত ১৭ নভেম্বর হাজীগঞ্জ বাজারের মকিমাবাদ এলাকায় হাজী ম্যানশনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। বাড়ি ফিরে মেয়েটি সমস্ত ঘটনা তার মা বাবাকে জানায়। মান সম্মানের ভয়ে ভিক্ষুক পরিবারটি কাউকে কিছু না বলে গোপনে ধর্ষক ইমামকে খুঁজতে থাকে। পরে তাকে খুঁজে পেয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ইমাম মোজাম্মেলের মোবাইলে ওই ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে। মেয়েটিকে ইংরেজি পড়ানোর নাম করে ইমাম সরলতার সুযোগ নেয়। ঘটনার পর থেকে ধূর্ত ইমাম মোজাম্মেল পলাতক ছিল। অন্ধ বাবা ও মা ভিক্ষা করতে এসে তাকে চিনতে পেরে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাকে সোমবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।