ধস নামবে তৃণমূলে! ইঙ্গিত দিলীপের

২৩শের পর ভাঙন অবশ্যম্ভাবী তৃণমূল কংগ্রেসে। এমনটাই দাবি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের। বুথ-ফেরত সমীক্ষায় ভোটের ফলে গেরুয়া প্লাবনের আভাস মেলার পরদিনই দিলীপবাবু বুক ঠুকে জানিয়ে দিলেন, ‘তৃণমূলের অন্তত ১০০ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আমাদের দরজা সবার জন্যই খোলা আছে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে বলেছিলেন, ‘এ রাজ্যের শাসকদলের ৪০ জন বিধায়ক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’ এদিন সেই মন্তব্যই শুধরে দিয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘সংখ্যাটা ৪০ নয়, ১০০।’ রবিবার ভোটসমীক্ষায় বিভিন্ন এজেন্সি জানিয়েছে, দিল্লিতে ফের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মোদি সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। সমীক্ষার মতে, অঘটন ঘটতে চলেছে এই বাংলাতেও। সেই সমীক্ষার ফলে বুক বেঁধেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২০২১ পর্যন্ত টিকবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তার আগেই পতন ঘটবে সরকারের। তবে এই মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যবাহী বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তবে ভোটসমীক্ষার ফলকে মানতে নারাজ মমতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভোটসমীক্ষার গালগল্পে বিশ^াস নেই তার। বিরোধী জোটকে অপ্রস্তুত ও বিভ্রান্ত করতে এ মোদির এক বড় চক্রান্ত। সমীক্ষায় বিশ^াস রাখতে পারছেন না বিরোধী শিবিরের অনেক নেতাই। তাদের মধ্যে অন্যতম অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। মায়াবতী, অখিলেশ যাদব, শারদ পাওয়ার, সীতারাম ইয়েচুরি এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা সেরে সোমবার বিকেলেই তিনি কলকাতায় ছুটে এসেছেন। শহরে পা দিয়েই তিনি চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। সেখানে একান্তে আলোচনায় বসেন তিনি। জানা গেছে, খুব শিগগিরই বিরোধী নেতারা দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন। তবে তার আগেই মঙ্গলবার দিল্লিতে দলীয় নেতা-মন্ত্রীদের বৈঠকে ডেকেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

চন্দ্রবাবুর এই দৌত্যকে এদিন কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। চন্দ্রবাবুর এই ‘অনর্থক দৌড়ঝাঁপে’ কোনো লাভ হবে না বলেই তার মত। তার বক্তব্য সমীক্ষায় যা বলেছে তার চেয়েও বাংলায় বেশি আসন পাবে বিজেপি। ২৩ তো বটেই, সংখ্যাটা ৩০-এও পৌঁছে যেতে পারে। ২০১৪-র নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় পেয়েছিল সাকুল্যে দুটি আসন। তৃণমূল জেতে ৩৪ আসনে। গেরুয়া শিবিরের আশা, এবার পাশা উলটে যাচ্ছে, যা তৃণমূলের পতনের আগাম সংকেত। তবে বসে নেই বিরোধী শিবির। ২৩শে মে ভোটের ফল যা-ই হোক, এদিন মায়াবতীর সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা সেরে উত্তরপ্রদেশ থেকে অখিলেশ ফোন করেছিলেন মমতাকে। চন্দ্রবাবুর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগেই।