শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কীর্তিনগর গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু‘পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে।
মঙ্গলবার এ সংঘর্ষে ৮ জন ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহত পাঁচজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ও তিনজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মোল্যা ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি রিপন সরদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা ও তার ছেলে সাগর মোল্যা, আরেক ছেলে শাওন মোল্যা, সমর্থক ইচহাক মাদবর ও জামাল হাওলাদার আহত হয়েছে।
সংঘর্ষে রিপন সরদারের মা ফিরোজা বেগম, তার চাচাতো ভাই তোতা সরদার ও সমর্থক শহীদ মল্লিক আহত হয়েছে।
আহত সাগর মোল্যার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্ল্যার ছেলে সাগর মোল্যা কীর্তিনগর সেতুর কাছে যায়। সেখানে রিপন সরদারের সমর্থক তোতা সরদারের সাথে সাগরের বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে রিপনের সমর্থকেরা তাকে চড় মারেন। এ সংবাদ ওমর ফারুকের কাছে গেলে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ওই স্থানে যান। তখন রিপনের সমর্থকরাও সংঘবদ্ধ হয়ে আসে। দুপুর দেড়টার দিকে দু‘পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়। রামদা, ছেনাদা, সুরকি নিয়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ও সন্তোষপুর ফাঁড়ি পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের পুত্র বধূ শারমিন আক্তার বলেন, রিপন সরদার এলাকায় নির্বাচন করতে চায়। এই কারণে সে আমার শশুর, স্বামী ও দেবরের উপর ক্ষিপ্ত। পরিকল্পিতভাবে বিনা কারণে আমার স্বামীকে মারধর করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমার শ্বশুর ওই স্থানে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমার স্বামী, শ্বশুর ও দেবরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোঁপানো হয়েছে।
রিপন সরদার বলেন, আমি দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলাম না। এখন এলাকায় এসেছি। কম-বেশি রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও তার ছেলেরা শুধু শুধু আমার সাথে বিরোধ করছেন। তারা আমার মাকে আঘাত করেছেন। তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমি ওই স্থানে উপস্থিত হয়ে দু’পক্ষের ঝগরা মিটিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যানের দুই ছেলে বেশি উগ্র ছিল। তারাই আমার সমর্থকদের কোপাতে থাকে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ যাওয়ায় সংঘর্ষ থেমেছে। দুই পক্ষের আটজন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। সংঘর্ষে যারা যুক্ত ছিল তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।