নৌ-পথ: টিকিট না পেয়ে ফিরে আসছেন যাত্রীরা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রয় শুরু হওয়ার কথা ছিল গত সোমবার থেকে। কিন্তু দু-দিন পেরিয়ে গেলেও  দক্ষিণাঞ্চলগামী  লঞ্চের নির্দিষ্ট কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেনি লঞ্চ কতৃপক্ষ। টিকিট বিক্রির জন্য নির্ধারিত সদরঘাট টার্মিনালে  কাউন্টারে গিয়ে টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, লঞ্চের টিকিট বিক্রির জন্য ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের নতুন ভবনে টিকিট কাউন্টার থাকলেও প্রায় সব কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। দু একটি খোলা থাকলেও সেখানে ছিল না লঞ্চের কতৃপক্ষ।

যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা গণমাধ্যমে জানতে পেরেই  অগ্রিম টিকিটের জন্য এসেছেন। তাদের প্রশ্ন, মালিকরা যদি নির্দিষ্ট সময়ে টিকিট  বিক্রি না করেন  তাহলে কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো?

চরফ্যাশনগামী টিকিটপ্রত্যাশী জাহাঙ্গীর বকসি বলেন, সরকার লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেন। কিন্তু আমরা এখন ঘাটে এসে প্রতারিত হয়েছি। কোথাও কোন টিকিট পাচ্ছি না। কোনও লঞ্চ মালিকই সরকারি নিদের্শনা কিংবা লঞ্চ মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত মানছেন না।

বাড্ডা থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত অনিক জানান, সকাল থেকে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করেও ভোলাগামী কোন লঞ্চের টিকিট পায়নি। টার্মিনালের  কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। কোম্পানির ফোন নাম্বার গুলোতে যোগাযোগ করা হলেও সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে তাসরিফ লঞ্চের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের ঢাকা-বরিশাল রুটে চারটি লঞ্চ যাতায়াত করে। চাহিদা অনুযায়ী আমাদের লঞ্চের আসন সংখ্যা কম। যাত্রীদের চাহিদা পুরনের বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে দুদিন সময় লেগেছে। আসা করছি বুধবার থেকে আমারা টিকিট বিক্রি শুরু করব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) যুগ্ম-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) আলমগীর কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমাদেও নজওে রয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে সব লঞ্চের কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলেছি।  তারা জানিয়েছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে সব কোম্পানি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করবে।

যারা সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।