মৌমাছির বাড়ি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাবরি গ্রামের শামসুল হক ওরফে নেনকু মাস্টারের বাড়িটি এখন ‘মৌমাছির বাড়ি’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। জেলা সদর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে এ বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে ১২টি মৌচাক বাড়ির বাইরে ও ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। এলাকার চারপাশ থেকে বিভিন্ন ফুলের মধু সংগ্রহ করে চাক তৈরি করেছে মৌমাছির দল।

বাড়ির বিভিন্ন স্থানে মৌমাছিরা চাক বাঁধায় নজর কাড়ছে এলাকাবাসীর। শামসুল হক ওরফে নেনকু মাস্টারের বাড়িটি মৌমাছিবান্ধব হওয়ায় আশপাশের এলাকার লোকজন প্রতিদিন বাড়িটিতে ভিড় জমান মৌমাছি দেখতে ও মধু কেনার জন্য।

বাড়ির মালিক শামসুল হক মাস্টার জানান, মৌমাছি নিজেরাই তার বাড়িতে এসে বাসা বেঁধেছে ১০ বছর আগে। এলাকার ও পরিবারের কেউ মৌমাছিগুলোকে বিরক্ত করে না আর মৌমাছিরাও তাদের আক্রমণ করে না বলে জানান বাড়ির মালিক নেনকু মাস্টার।

মৌচাক থেকে প্রতি মাসে দুইবার মধু সংগ্রহ করেন বাড়ির মালিক। প্রতিবার ১২-২০ কেজি মধু সংগ্রহ করেন তিনি। এতে বছরে ২৪ বারে ৪০০ কেজি মধু সংগ্রহ করেন বাড়ি মালিক। অর্ধেক মধু ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেন আর বাকিটা নিয়ে যান মধু সংগ্রহকর্মীরা।

মৌমাছি সম্পর্কে ঠাকুরগাঁও হ্যাডস কৃষি ডিপ্লোমা কলেজের অধ্যক্ষ সফিউল আলম বলেন, পরিশ্রমী আদর্শ প্রাণী হিসেবে এদের সহজে আলাদা করা যায়। মৌমাছি নির্দিষ্ট নিয়ম ও সুশৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে হাজারো প্রজাতির মৌমাছি আছে। এদের মধ্যে এপিস সেরানা নামের মৌমাছি এদেশের গ্রামগঞ্জে দেখা যায়। এরা সাধারণত গাছের গর্তে, বাসা, দালানের কার্নিশ, সানশেড, ইটের স্তূপ ও মাটির গর্তে বাসা বাঁধে। প্রতি চাকে একটি রানী, শতাধিক পুরুষ মৌমাছি থাকে আর এদের নেতৃত্বে আরও ২৫-৩০ হাজার মৌমাছি মিলে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে বলে জানায় অধ্যক্ষ সফিউল আলম।