পরিবহনে চাঁদাবাজি

‘চাঁদা না দেওয়ায়’ সাভারে শ্রমিক নেতাকে মারধর

সাভারের আশুলিয়ায় চাহিদামাফিক চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় দুই পরিবহন শ্রমিক নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এর এক দিন আগে বিষয়টি জানিয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন হামলার শিকার ভুক্তভোগী শ্রমিক নেতা রাজা মোল্লা। পরে মারধরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজা মোল্লা ও রুবেল শেখ দীর্ঘদিন ধরেই আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন ব্যবসা করে আসছেন। গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় আমির আলী ও রিয়াজ গাড়িপ্রতি ৬০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কিন্তু তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন রাজা মোল্লা ও রুবেল। এ ঘটনার জের ধরেই গত ১৬ মে রাতে তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

রাসেল নামে এক পরিবহন শ্রমিক জানান, আশুলিয়ার বাইপাইলের পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনা নতুন না। তবে সম্প্রতি আমির, জিহাদ মোল্লা, রিয়াজ, গাউছ ও পান্নুর নেতৃত্বে আবার নতুন করে ব্যাপকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই শুরু হয় শারীরিকভাবে নির্যাতন। মারধর ও জীবন বাঁচানোর তাগিদে অনেকেই নীরবে তাদের হাতে চাঁদার টাকা তুলে দেন।

সন্ত্রাসী হামলায় আহত রাজা মোল্লা বলেন, ‘আমির আলী ও রিয়াজ মোল্লা কয়েক দিন আগে আমার উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস কাউন্টারে এসে এককালীন ৫০ হাজার ও প্রতিদিন গাড়িপ্রতি ৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আশুলিয়া থানায় গত ১৪ মে একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-১১৬০) করি। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।’

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমির আলী জানায়, মারধরের ঘটনাটি সত্য। তবে এতে তার কোনো ইন্দন নেই। আর চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলে, ‘আমি পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও চাঁদাবাজির কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’

আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ১৬ মে বাইপাইলে মারামারির ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।