কুড়িগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলায় নাগেশ্বরী পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহমান মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। তার বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আশিকুল কবিরের আদালতে পৌরমেয়র জামিনের আবেদন করলে, বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। এর আগে হাইকোর্ট থেকে তিনি ৪ সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন।
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, গত ১৪ মার্চ মেয়র আব্দুর রহমান মিয়ার বিরুদ্ধে রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক নুর আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগেশ্বরী হাসপাতালের পৌরকর বাবদ ১৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নাগেশ্বরী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পৌরমেয়র ২০১৩-১৪ ও ১৫ অর্থবছরে তিন দফায় নাগেশ্বরী হাসপাতাল থেকে প্রদানকৃত পৌরকর পৌরসভার হিসাব নম্বরে জমা প্রদান করেননি। পরবর্তীতে দুদকে অভিযোগের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে নাগেশ্বরী পৌরসভা শিরোনামে সোনালী ব্যাংক শাখায় ১৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা জমা প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে কমিশনের আইন অনুবিভাগের মতামত অনুযায়ী, আত্মসাৎকৃত টাকা পরবর্তীতে ফেরত প্রদান করলেই অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায়, নাগেশ্বরী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে সাময়িক আত্মসাতের দায়ে মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন প্রাপ্ত হন। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয় এবং নিম্ন আদালতকে মামলার মেরিট অনুসারে সিদ্ধান্তের আদেশ দেন।
বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে, বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ(ভারপ্রাপ্ত), অর্থ আত্মসাতের মামলায় পৌর মেয়র আব্দুর রহমান মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফকরুল ইসলাম।