তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। কাঠপোড়া প্রখর রোদ আর গরম বাতাস শরীরে লাগছে আগুনের হলকার মতো। শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে নাকাল হয়ে পড়ছেন। কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন দিন আনা-দিন খাওয়া মানুষ। গত কয়েক দিন টানা তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শত শত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা। ওঠানামা করছে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড। এদিকে বৃষ্টির দেখা না মেলায় গরমের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। যেন শরীরে আগুনের ছেঁকা লাগছে। তীব্র গরমের কারণে দুপুরের আগেই শহরের বেশির ভাগ এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। একটু স্বস্তির জন্য অনেকে গাছতলা বা পার্কে গিয়ে বসার চেষ্টা করছেন। সেখানেও তপ্ত হাওয়ার ছোবল। চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়ার বাসিন্দা রিপা খন্দকার জানান, গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে ভেল্কিবাজি শুরু করেছে বিদ্যুৎ। লোডশেডিং তো আছেই, তার সঙ্গে আছে লো-ভোল্টেজের দুর্ভোগ। এতে বাড়িতে এসি তো লোডই নিচ্ছে না, সঙ্গে সিলিংফ্যানও চলছে ধীর গতিতে। সোমবার দুপুরে শহরের শহীদ হাসান চত্বরে কথা হয় রিকশাচালক রহিম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বয়স বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে শরীর চলে না। নিজে অ্যাজমার রোগী। একটু রিকশা চালালেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। বাড়িতে খাবার নেই, তাই অসুস্থ শরীরেই রিকশা চালাতে এসেছি। কিন্তু গরমের কারণে মানুষ তেমন বাইরে বের হচ্ছেন না।’
অব্যাহত তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন দুই শতাধিক রোগী। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শামীম কবির জানান, ‘প্রতিদিন গড়ে ১০০ নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে। এতে করে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্টাফদের হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসা দিতে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সাধ্যমতো।’