কুমিল্লায় ভুল চিকিৎসায় খুকু মনি সাহা (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে ওই গৃহবধূর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
খোকন সাহা সাংবাদিকদের জানান, গত সোমবার তার স্ত্রী খুকু মনি সাহার পেটে ব্যথা হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে তাকে নগরীর ঝাউতলা মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে খুকু মণির শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করলে কিছুক্ষণের মধ্যে সে মারা যায়।
তিনি আরও জানান, স্ত্রীর মৃত্যুর সাথে সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের জন্য আমাদের চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে জোরপূর্বক সাড়ে ৫ হাজার টাকা নিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা পালিয়ে যায়।
এদিকে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বজনরা হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালের একটি কক্ষ ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুল চিকিৎসায় স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে মঙ্গলবার বিকেলে ওই গৃহবধূর স্বামী খোকন সাহা বাদী হয়ে হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক ও কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তাইফুর আলম, ডা. সীমান্ত কর্মকার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অপর দিকে হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বাদী হয়ে গৃহবধূর স্বামী খোকন সাহা এবং তার প্রতিবেশী পারভেজের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করে পাল্টা আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ও রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে হাসপাতালে ভাঙচুরের পৃথক দুটি মামলাই এফআইআর ভুক্ত করা হয়েছে, তবে দুটি মামলায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।