ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ফাইনালের অপেক্ষায় জেমি ডে

জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দ্বিতীয় পর্বে এক বছরের চুক্তি করেছেন জেমি ডে। ইংলিশ এই কোচ গতকাল ঢাকায় এসেই লাওস মিশন সামনে রেখে ঘোষণা করেছেন জাতীয় দল। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে আরও এক বছরের চুক্তি, আগের এক বছর কেমন কাটল, এসব নিয়ে কথা বলেছেন সুদীপ্ত আনন্দ’র সঙ্গে। পাশাপাশি মাতৃভূমিতে আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপও স্থান পেয়েছিল দীর্ঘ আলোচনায়। যার চুম্বক অংশ এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকারে :

বাংলাদেশের সঙ্গে আরও এক বছরের চুক্তি করলেন। কেমন হবে সামনের এক বছরের পথচলা?

 নতুন চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট। আমরা গত বছরটায় খুব ভালো উন্নতি করেছি। বেশকিছু তরুণ খেলোয়াড় পেয়েছি জাতীয় দলে। গত বছর আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি ঘটানো। সেটা কিছুটা হয়েছেও। কাজটা উপভোগ করছি আমি। বাফুফের সঙ্গেও কাজ করে সন্তুষ্ট। এখানকার মানুষকে পছন্দ করি। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আমরা খুব ভালো সম্পর্ক। আমি আসলেই আরেকটি উপভোগ্য বছরের দিকে তাকিয়ে আছি।

বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে একটা ধারণা আপনি পেয়েছেন। আপনি মনে করেন বাংলাদেশের ফুটবল সঠিক পথে আছে?

 অনেক কিছুতেই আমাদের পরিবর্তনের সুযোগ আছে। তবে রাতারাতি সবকিছু বদলে যাবে না। তার জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এখানে ক্লাবগুলোর একাডেমি গড়ার পথে হাঁটতে হবে। ক্লাবগুলোরও আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। তাদের প্রয়োজন ভালো অনুশীলনের মাঠ। তবে এটাও ঠিক আর্থিক সংকট এ দেশের ফুটবল উন্নয়নের পথে বড় বাধা। তারপরও ক্লাবগুলোর উচিত নতুন ফুটবলার তৈরির দিকে মনোযোগী হওয়া। আমি শুনেছি এ দেশের ফুটবল একসময় বিপুল জনপ্রিয় ছিল। প্রচুর দর্শক মাঠে আসত। প্রচুর খেলোয়াড়ও উঠে আসত গ্রামগঞ্জ থেকে। এখন সেটা কম হচ্ছে। আমার মনে হয় এ দেশে প্রচুর ভালোমানের কোচ রয়েছে। তাদের দেশের প্রতিটি আনাচে-কানাচে পাঠাতে হবে ভালো ফুটবলার সংগ্রহের জন্য।

বাংলাদেশের মতো দেশে কাজ করাটা কতটা কঠিন?

 একটা নতুন পরিবেশে, নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ করাটা কঠিন। তাছাড়া এখানে অনেক কিছুরই চাহিদা, যা সহজে পূরণ হয় না। তাছাড়া এখানে আমার কাজ করাটা কঠিন কারণ আমাকে এখানে আসতে হয় আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে। তারপরও আমি কাজটা খুব উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি। আর এখানে এসেছি একটি জাতিকে সহায়তা দিতে। তাই ব্যক্তিগত চাওয়াগুলো কিছুটা ছাড় দিতেই হচ্ছে।

একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়ার পথে কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ?

 এ বছরটা বাংলাদেশ তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় দলসহ বেশকিছু বয়সভিত্তিক দলের বছরজুড়ে অনেক খেলা আছে। তারা যদি এসব খেলাগুলোতে ভালো করতে চায়, তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বয়সভিত্তিক দলগুলো থেকে আশা করছি আরও কিছু খেলোয়াড় পাব।

লাওসকে হারিয়ে আসলেই কি বাংলাদেশ মূল বাছাই পর্বে যেতে পারবে?

 সর্বশেষ দুবারের দেখায় কিন্তু আমরা তাদের বিপক্ষে হারিনি। প্রথম ম্যাচটা ২-২ ড্র করেছি। আর বঙ্গবন্ধু কাপে তাদের হারিয়েছিলাম। তারপরও আমি মনে করি লাওস অনেক ভালো দল। এখানে বিষয়টা এমন যে যারা তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারবে, তারাই জিতবে।

ইংল্যান্ডে কদিন পর শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। একজন ইংলিশ হিসেবে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

 দল হিসেবে ইংল্যান্ড খুব ভালো করছে। আশা করি হোম অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগিয়ে তারা অন্তত সেমিফাইনাল খেলবে।

বাংলাদেশ যেদিন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেদিন?

 (হাসি) আমি মন থেকে চাই ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ফাইনাল হোক। আর একজন ইংলিশ হিসেবে চাই ট্রফিটা ইংল্যান্ড জিতুক।