লন্ডনের দ্য ফিল্মশেডে গতকাল ইংলিশ দুপুরে ১০ অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনটা বেশ জমে উঠল। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে অংশ নিতে যাওয়া সব অধিনায়কের উন্মুক্ত আলাপচারিতা। হোস্ট ছিলেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ ক্রীড়া টেলিভিশন উপস্থাপক মার্ক চ্যাপম্যান। কয়েকশ সাংবাদিক। আর সেখানে সিরিয়াস আলোচনার মধ্যে হাসিঠাট্টায় বাংলাদেশ দল যে এবারের আসরের সমীহ জাগানিয়া এক দল সেই চিত্রও উঠে এলো।
একে একে ১০ অধিনায়ক এলেন মঞ্চে। আলো-আঁধারিতে ঘেরা অডিটরিয়ামে হাস্যোজ্জ্বল মুখ সবার। সেখানে একে অন্যের প্রতি কোনো অধিনায়কের হুমকি-ধমকি নেই। ছিল মনকাড়া আলোচনা। প্রায় ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠানে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নিজে বললেন না তাদের দলটা কত বিপজ্জনক। বলে দিলেন খোদ উপস্থাপকও। তবে আলাপের প্রসঙ্গে মাশরাফী তার কথায় ইঙ্গিত রেখে গেলেন, যেকোনো দলই তার দলের সামনে পড়লে নিরাপদ থাকতে পারবে না। ইয়ন মরগান, বিরাট কোহলি, জেসন হোল্ডার, দ্বিমুথ করুনারত্নে, ফাফ দু প্লেসি, অ্যারন ফিঞ্চ, কেন উইলিয়ামসন, সরফরাজ আহমেদ, গুলবাদিন নাইবের সঙ্গে মাশরাফী। বাংলাদেশ অধিনায়কের ডান পাশে ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। একই সোফাতে বাঁ পাশে ফিঞ্চ এবং তারপর দু প্লেসি। উপস্থাপক মাশরাফীর কাছে আসার সময় প্রশ্নটা করলেন গত কয়েক বছরে এই দলটির ধারাবাহিক উন্নতি নিয়েই। বললেন, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ নয়টি সিরিজ জিতেছে। তাতেই বোঝা যায় আপনাদের উন্নতি কতটা হয়েছে। ‘অবশ্যই’Ñ এককথায় সায় দিয়ে মাশরাফী প্রকারন্তরে এই বিশ্বকাপে তার দলের শক্তিমত্তার কথাটাই তুলে ধরলেন নেতার মতো, ‘আসলে আমরা দারুণ কিছু খেলোয়াড়ের দল পেয়েছি। এখানে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে জুনিয়র ক্রিকেটারদের মিশ্রণটা হয়েছে চমৎকার। তারা (জুনিয়ররা) সত্যিকার অর্থেই রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলছে যেকোনো জায়গায়। ওরা পারফর্ম করছে। যেমন আয়ারল্যান্ডে শেষ সিরিজে তারা খুব ভালো খেলেছে।’
প্রত্যেক অধিনায়কই প্রায় এক সুরে মত দিলেন এবারের বিশ্বকাপ যদিও ব্যাটসম্যানদের কিন্তু শেষ হাসিটা হাসবে সেই দল যারা বোলিং শক্তিতে এগিয়ে। প্রসঙ্গক্রমে আসে কে কেমন করতে পারে এই বিশ্বকাপে সেই মত জানার।
‘আশা করি আমরা ভালো করব’ কথাটা বলেই হাসেন মাশরাফী। ফিঞ্চকে ছাড়িয়ে চোখ রাখেন প্রোটিয়া অধিনায়ক দু প্লেসির দিকে। ‘প্রথম ম্যাচ জুনের ২ তারিখ ফাফের সঙ্গে (পাশে বসা ফাফ দু প্লেসির দিকে তাকিয়ে হেসে)। আশা করি শুরুটা ভালোই হবে।’ উপস্থাপক একটু ভয় ধরাতে চাইলেন দু প্লেসিকে। এই দক্ষিণ আফ্রিকাকে তো ২০১৫ সালে নিজেদের দেশে সিরিজ হারিয়েছে মাশরাফীর দল। তবে ‘ভয় পাচ্ছি না’ জানিয়ে রসিকতার জবাবে রসিকতা দু প্লেসির।
আবার প্রশ্ন আসে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের ব্যাপারে। যে পরিবর্তনটা এসেছে গেল চার বছরে। হার না মানার প্রবল প্রতিজ্ঞা। যে কাউকে হারানোর সামর্থ্যরে প্রবল বিশ্বাস ও মানসিকতার বিষয়ে। এই পরিবর্তিত মানসিকতার বিষয়ে তৃপ্তি ফোটে মাশরাফীর চেহারায়, ‘অবশ্যই। ক্রিকেট এমন একটি খেলা নিজেদের দিনে আপনি যে কাউকে হারাতে পারেন। বিশেষ করে আমাদের মতো দল যারা ভালো একটা শুরু করে তা ধরে রাখতে পারলে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে তা ভালো শুরুর ওপর নির্ভর করে।’ শর্ত দিয়ে দিলেন ভালো একটা শুরুর।
এর মধ্যে এক নারী সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, অন্য কোনো দল থেকে যদি একজনকে নিজেদের দলে নিতে চান তাহলে কোন অধিনায়ক কাকে বেছে নেবেন। প্রশ্নটা জটিল।
এবি ডি ভিলিয়ার্স অবসর না নিলে তাকে নিতেন বলে জানালেন বিরাট কোহলি। সেই উপায় নেই বলে ফাফ দু প্লেসির নাম বললেন। অ্যারন ফিঞ্চ চাইলেন কাগিসো রাবাদাকে। লঙ্কান অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারতেœর পছন্দ বেন স্টোকসকে।
কিন্তু মাশরাফী? হাসেন। তার ডান দিকের ভিন্ন সোফায় কোহলি। মাশরাফীর দিকে যখন তাকালেন উপস্থাপক তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘আমি?’ ‘হ্যাঁ।’ মাশরাফী সময় নষ্ট না করে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিলেন ভারত অধিনায়ককে, ‘ওই লোকটাকে।’
বিশ্বকাপ আসে রোমাঞ্চ নিয়ে। সব খেলোয়াড়ের স্বপ্নের আসর। কে কেমন রোমাঞ্চিত, কার দল রোমাঞ্চ নিয়ে কীভাবে অপেক্ষায়?
‘আমার দলের এখন সবার প্রস্তুতি এই বিশ্বকাপ নিয়ে।’ মাশরাফী রোমাঞ্চটাকে একটু ব্যাকফুটে ঠেলে আগে প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তারপর এলেন মূল জাবাবে, ‘সবকিছু নির্ভর করছে আমরা কীভাবে মানসিকভাবে তৈরি হই তার ওপর। দল হিসেবে আমরা অবশ্যই রোমাঞ্চিত।’