নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া বৈদ্য বাড়িতে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক যুবলীগ নেতা বাবুসহ সাতজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নুর আলম জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০.৩০টার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হারুন ও যুবলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া বৈদ্য বাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ির লোকজনদের মারধর করে ঘর দুয়ার ভাংচুর করে অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
হামলার সময় হারুনুর রশিদ প্রকাশ হারুন (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), মাহবুবুর রহমান বাবু দুই সন্তানের জননী (২৫) এক নারীকে ধর্ষণ করে।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে রাতেই তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
ধর্ষিতা নিজেই বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হারুনুর রসিদ, সাইফুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমান বাবুকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ও র্যাব-১১ অভিযানে নামে এবং ঘটনার মূল নায়ক হারুনুর রসিদ, মাহবুবুর রহমান বাবু, সাইফুল ইসলাম, পারভেজ, আনোয়ার হোসেন, পেয়ার আহমেদ তারেক, সামছুল আলম রাসেলকে গ্রেপ্তার করে।
এর মধ্যে মামলার আসামি যুবলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান বাবুর নিকট থেকে পুলিশ দেশীয় তৈরি ১টি এলজি ও ১ রাউন্ড গুলি এবং ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও মাদকদ্রব্য আইনে আরো ২টি মামলা দায়ের করা হবে বলে ওসি (তদন্ত) নুরে আলম জানান।
ওসি আরো জানায়, মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বেগমগঞ্জ থানায় আরো ৬টি মামলা রয়েছে। সে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং বেগমগঞ্জ পশ্চিম অঞ্চলের ত্রাস দস্যু নিজাম বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) নুরে আলম জানায়, আসামি হারুনুর রশিদ ও মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।
শনিবার আসামিদের আদালতে হাজির করার পর জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আজিম জানান, ভিকটিম (২৫) কে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ২নং গাইনী ওয়ার্ডে বিভাগীয় প্রধান ডা. আবু নাছেরের অধীনে ভর্তি করা হয়েছে এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যা সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করছেন।
গাইনী ওয়ার্ডের প্রধান ডা. আবু নাছের জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। বাকিটা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যাবে। ধর্ষিতা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।