টাঙ্গাইলের মধুপুরে আলোকদিয়া ইউনিয়ন উত্তর লাউফুলা গ্রাম। সেখানে ৬ মাস আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে ‘খালেক বাজার’ নামে একটি বাজার বসানো হয়। হঠাৎ করেই স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার হস্তক্ষেপে বাজারের নামকরণ করা হয় ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’।
আব্দুল খালেকের ছেলে হাফিজুর (২৫) জানান, তার পঙ্গু বাবা ঢাকায় ভিক্ষা করে সংসার চালিয়ে আসছেন। তিনি অন্তত ৪ বছর আগে লাউফুলা গ্রামের রাস্তায় ভিক্ষার টাকা দিয়ে একটি মুদির দোকান দেন। কালক্রমে সেখানে অন্যরাও পসরা সাজিয়ে বসা শুরু করলে তা ‘খালেক বাসস্ট্যান্ড’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরে সেখানে ওই নামে সাইনবোর্ড লাগানো হয়। এছাড়া, মাস ছয়েক পূর্বে সেখানে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি বাজার বসানো হয়, যার নামকরণ করা হয় ‘খালেক বাজার’ নামে।
কিন্তু, একই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ওই বাজারের নাম পরিবর্তন করে ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ রাখেন। এ নামকরণ নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর থেকেই বাজারটিও বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ এর সাইন বোর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুরো উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়।
জহিরুল ইসলাম নামে একজন ফেসবুক আইডিতে এ নিয়ে একটি পোস্ট দিলে নানা মন্তব্যের ঝড় উঠে। কাজী আসাদুজ্জামান আদর নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘এটা হতে পারে না,নিন্দা জানাই অবিলম্বে এই সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলা হোক। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির নাম ভাঙিয়ে নিজেদের সুবিধা আদায় করছে ছি!’
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মধুপুরের আলোকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর লাউফুলা গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ আনারস চাষ করে। প্রতিদিন সকাল বেলায় এ গ্রামে কাঁচা বাজার বসে। কয়েক বছর ধরে চলে আসছে এ বাজারটি। প্রথমে বাজারটি বসানোর উদ্যোগ নেন আব্দুল খালেক নামের এক ব্যক্তি। কিছুদিনের মধ্যে বাজারটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সবার কাছে। ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ নামকরণের পর থেকেই বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতিদিন বাজার না বসলেও নামকরণের সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তর লাউফুলা গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এ বাজারটি বসানো হয়েছিল। প্রথম অবস্থায় বাজারের নাম ছিল ‘খালেক বাজার’। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু আওয়ামী লীগের নেতা নাম পরিবর্তন করে ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ করেন।
একই গ্রামের জয়নাল জানান, প্রতিদিন সকালে কাঁচা বাজার বসতো এখানে। কয়েকটি গ্রাম মিলে আমরা এ বাজারটি বসিয়েছি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা শহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড নামকরণের পর থেকে বাজারটি আমরা বন্ধ করে দেই।
আলোকদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেন। তাই তিনি এ বাজারটি ‘আওয়ামী লীগ বাজার ও বঙ্গবন্ধু বাসস্ট্যান্ড’ নামকরণ করেছেন।
আলোকদিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ধরনের কোনো নাম দিয়ে বাজারের নামকরণ করাটা সমীচীন নয়। এতে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক কামাল জানান, বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এলাকায় কোন সাইনবোর্ড দেখতে পায়নি। মনে হয় মুহূর্তেই সেখান থেকে সাইনবোর্ড দুইটি হাওয়া হয়েছে।
সাইনবোর্ড দেওয়ার বিষয় নিয়ে লীগ নেতা শহিদুল ইসলামের মোবাইলে কল দিলে বারবার বন্ধ পাওয়া গেছে।