বন্ধের পথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে গড়ে ওঠা একটি ঘাটের জন্য নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্র্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় বন্ধ হতে চলেছে সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো গেট এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে ঘাটের ইজারা প্রত্যাহার করার জন্য লিখিত আবেদন করার পরও কর্র্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন নারায়ণগঞ্জ কর্র্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো গেট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা জাহাজ থেকে মালামাল লোড-আনলোড করার জন্য একটি ঘাট ইজারা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্র্তৃপক্ষ। যেখানে রয়েছে পাঁচতারা জুনিয়র হাইস্কুল নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দু-পাশে দিয়ে রয়েছে দুটি রাস্তা। এই দুটি রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল, ধুলাবালি, খাদ্যপণ্যের ডাস্ট, পরিত্যক্ত পচা খাবারের দুর্গন্ধ, ট্রাকের হাইড্রলিক হর্নের শব্দ ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্কুলে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। দুর্ঘটনার ভয় ও সারা বছর রাস্তা  নষ্ট থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ পাঁচতারা সংসদ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের নিজস্ব জমিতে ১৯৯৬ সালে গড়ে তোলা হয় পাঁচতারা জুনিয়র হাইস্কুলটি। প্রতিষ্ঠানের আশপাশে চারটি খেয়াঘাট থাকায় নদীর দুই পারের শিক্ষার্থীদের পদচারণ ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করে চারটি ঘাট বন্ধ করে সাইলো খাদ্যগুদাম গড়ে তোলা হয়। নিরুপায় হয়ে স্থানীয়রা পাঁচতারা জুনিয়র হাইস্কুলের নিজস্ব জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে। ২০১৩ সালে সাইলো এলাকায় ৩৩৫ মেগাওয়াট রি-সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা ভারী যন্ত্রাংশ ওঠানোর জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ সাময়িক অনুমতি সাপেক্ষে একটি অস্থায়ী ঘাট ও রাস্তা তৈরি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ স্থানীয়দের মতামত বা জনমত জরিপ না করেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জাহাজ থেকে মালামাল লোড-আনলোড করার জন্য অস্থায়ী ঘাটকে নিয়মিত ঘাট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ও ইজারা প্রদান করেন।  

পাঁচতারা জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানায়, গত এক বছর আগে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৩০ জন, শিক্ষক ২৩ জন। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৫০ জন, শিক্ষক আটজন। শিক্ষক শিক্ষার্থী না থাকায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া আর উপায় দেখা যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. শহীদুল্লা বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। হেড অফিসের সাথে কথা বলেন।’