ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের বড় হার

বিবর্ণ বোলিংয়ের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা। কার্ডিফে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটায় বাংলাদেশ তাই পারল না লড়াই জমাতে। বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাট আশা জাগালেও অন্যরা ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন। ফলে বড় ব্যবধানে হারল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।

মঙ্গলবার কার্ডিফে ভারতের কাছে ৯৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৩৬০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩ বল বাকি থাকতেই ২৬৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগার ব্যাটিং লাইন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা খারাপ ছিল না। চোটের কারণে তামিম ইকবাল ছিলেন না। লিটন দাস ও সৌম্য সরকার ইনিংস উদ্বোধন করেন। দুজন ভালো শুরু এনে দেন দলকে। উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৯ রান।

কিন্তু জাসপ্রিত বুমরাহর করা নবম ওভারের দুটি বলই এলোমেলো করে দিল সব। সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান ফিরে গেলেন পর পর দুই বলে। সৌম্য ২৫ রান করে ফেরেন। সাকিব ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক মেরে।

এরপর লিটন ও মুশফিকুর রহিম পথে ফেরান দলকে। দুজন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১২০ রান। দর্শকেরা যখন আশা দেখছিল, ঠিক তখনই খেই হারাল বাংলাদেশ। ৩২তম ওভারে ফের পর পর দুই বলে উইকেট হারাল লাল-সবুজের দল।

যুজবেন্দ্র চাহালের করা ওভারের তৃতীয় বলে লিটনকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন উইকেটরক্ষক ধোনি। ৯০ বলে ১০ চারে ৭৩ রান করে ফেরেন লিটন। পরের বলেই ফিরে যান মোহাম্মদ মিঠুন (০)।

সেই বিপদ আরো বাড়ে মাহমুদউল্লাহও ফিরে গেলে। ৯ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর আবার পর পর দুই বলে উইকেট হারানো বাংলাদেশের। কুলদীপ যাদবের করা ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফেরেন মুশফিক। পরের বলে গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরে যান মোসাদ্দেক হোসেন। মুশফিক ৯৪ বলে ৯০ রান করেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ২ ছক্কা।

সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন। এই তিন ব্যাটসম্যানের ডাক মেরে ফেরাটাই যেন বাংলাদেশের ব্যর্থতা কোথায় তা জানান দিয়ে যায়। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ বেশ সানন্দে খেললেন। তবে তা দলকে জয়ের পথে নিতে পারেনি। তার আগেই আসলে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয়ে যায়। সাইফউদ্দিন ১৮ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ রান করেন।

ভারতের পক্ষে সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহাল। জোড়া উইকেট নিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

এর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিতে বড় স্কোর গড়ে ভারত। ধোনি সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেন। ৭৮ বলের ঝোড়ো ইনিংসে ৮টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৭টি ছক্কা। লোকেশ রাহুল ৯৯ বলে ১২ চার ও ৪ ছক্কায় করেছেন ১০৮ রান।

প্রস্তুতি ম্যাচ বলে ৯ বোলারকে পরখ করে নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী। সর্বাধিক ২টি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল হোসেন ও সাকিব আল হাসান।