ক্যারিবিয়ার দ্বীপগুলোর মানুষের কাছে ক্রিকেট এক আবেগের নাম। যুগে যুগে ক্রিকেট তাদের হাসিয়েছে, আবেগে ভাসিয়েছে, আবার কাঁদিয়েছেও। ক্রিকেটের স্বর্ণালি দিনগুলো আজও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষের মুখে মুখে। ১৯৭৫ ও ’৭৯Ñ দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারা। সেই গৌরব আজও বুকে লালন করে রেখেছে ক্যারিবিয়ানরা। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফেরাতে, সমগ্র ক্যারিবিয়ান জাতিকে ফের কাছাকাছি নিয়ে আসতে এক দিন পর থেকে ইংল্যান্ডে বসতে যাওয়া বিশ্বকাপের শিরোপাটা জিততে চান উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সেই ইচ্ছেই জানিয়েছেন ক্যারিবিয়ানদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক।
১০ দলের এবারের বিশ্বকাপটা হয়তো খেলাই হতো না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকায় তাদের খেলতে হয়েছে প্লেঅফ। সেই প্লেঅফে ভাগ্যজোরে এই আসরের দশম দল হিসেবে বিশ্বকাপে পা রেখেছে তারা। ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো ওয়ানডে সিরিজ না জেতা উইন্ডিজকে তারপরও অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ রেখেছেন তাদের আন্ডারডগ তালিকায়। হোল্ডারও মনে করেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক টেস্ট সিরিজ খেলা উইন্ডিজের সামর্থ্য আছে বিশ্বকাপ জয়ের। একেবারে হিসাবের বাইরে থেকে তারা ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল। তাই তো একেবারেই হিসাবের বাইরে রাখা যাচ্ছে না হোল্ডারদের।
‘শিরোপা জিতলে সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি’Ñ সাক্ষাৎকারের শুরুটা এভাবেই করলেন হোল্ডার। ‘এটা এমন কিছু যা আমরা অনেক দিন আগে জিতেছিলাম (১৯৭৫ ও ’৭৯)। ক্যারিবিয়ার দ্বীপগুলোতে একটা কথা প্রচলিত আছে, যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট মাঠে ভালো করে তখন সে অঞ্চলের মানুষগুলো সবচেয়ে উৎফুল্ল থাকেন।’
জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডকে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ২-১-এ হারিয়েছিল উইন্ডিজ। টেস্ট ক্রিকেটের ফর্ম দিয়ে অবশ্য ওয়ানডেতে আশাবাদী হওয়ার কোনোই কারণ নেই, তারপরও হোল্ডার মনে করেন, ক্রমোন্নতির পথে থাকা ওয়ানডে দলটি আরও একটু ধারাবাহিক হলেই অনেক ভালো ক্রিকেট খেলবে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা। এরপর থেকে ওয়ানডে সিরিজ অধরাই থেকে গেছে তাদের কাছে। সেই দলটির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন হয়তো বাড়াবাড়িই ঠেকছে। ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের পরই দেখেছেন আমাদের নিয়ে ক্যারিবিয়ানরা কতটা মাতামাতি করেছে। আমাদের জিততে দেখলে, আধিপত্য বিস্তার করতে দেখলে তারা অনেক খুশি হয়। টেস্টে আমরা ভালো করছি। সেই ফর্মটা ওয়ানডেতে নিয়ে আসতে পারলে গর্ব করার মতোই কিছু করা সম্ভব আমাদের।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজটি ২-২-এ ড্র করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্রিস গেইল ৯৭ বলে ১৬২ রানের ধুন্ধুমার একটি ইনিংস খেলে দলকে ৩৬০ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচটি অবশ্য ইংল্যান্ড জিতেছিল জস বাটলারের ৭৭ বলে ১৫০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে। শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর ম্যাচেই গেইলকে পেয়ে যাচ্ছেন হোল্ডার, যা তার জন্য বড় স্বস্তির, ‘তাকে উইকেটে স্বরূপে দেখা সত্যিই দারুণ তৃপ্তির। ক্রিস একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার। তার সঙ্গে ইংল্যান্ড সিরিজেই একসঙ্গে জুটি গড়ে খেলেছিলাম। তার ১৬২ রানের ইনিংসটাও খুব সামনে থেকে দেখেছি। অনায়াসে প্রতিপক্ষের বোলারদের মাঠে চতুর্দিক দিয়ে উড়িয়ে মারছেন। ক্রিস যদি এই ফর্মে থাকেন তবে বিশ্বকাপে আমাদের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’