বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বোর্ডের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রতি বিষয়ে ২৫ টাকার বদলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা করে ফি আদায় করছে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বেতাগী সরকারি কলেজ থেকে ৬৮২ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ৬৮২ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ করে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা, ভূগোল বিষয়ে ১৮০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ করে ৩৬ হাজার টাকা, কৃষি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ে ২৯৫ জনের কাছ থেকে দুই বিষয় বাবদ ৬০০ করে ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, রসায়ন (প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র) ২০০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ করে ৮০ হাজার এবং জীববিজ্ঞান (প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র) ২০২ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ করে ৮০ হাজার ৮০০ টাকাÑ যার মোট হিসাব অনুযায়ী ৫ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আদায় করেছে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। বোর্ড নির্ধারিত ফি অনুযায়ী টাকা আদায় করলে আদায় হতো ১৭ হাজার ৫০ টাকা। সেখানে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ১৫০ টাকাই এক ব্যবহারিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বেশি আদায় করেছে বেতাগী সরকারি কলেজ কর্র্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বেতাগী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমীন কলেজের কেরানি দিপক গুহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ডের নির্ধারিত ফি ২৫ টাকার বদলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। একই সঙ্গে যদি কেউ ফি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাকে ফেল করানোর ভয় দেখান কলেজ কর্র্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় শিক্ষকরা। মূল বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার পর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতায় নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষকরা কলেজ কেরানি দিপকের মাধ্যমে কোনো ধরনের রসিদ ছাড়াই বিষয় ও জনপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে।
বেতাগী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফরম পূরণের সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি কলেজের কেরানি দিপক আদায় করেছেন। এখন আবার ফি আদায় করছেন, একই পরীক্ষার ফি কয়বার আদায় করবে আমরা বুঝি না। আবার কিছু বলতে গেলেই স্যাররা বলেন, “ব্যবহারিকের নম্বর আমাদের হাতে, একদম ফেল করাইয়া দিবো”।’
কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক সঞ্জীব কুমার রায়ের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রদর্শকের দায়িত্বে আছেন মাসুদুর রহমান। তিনি ২০০ টাকা করে নিতে পারেন, তবে তা আমার জানা নেই।’ বেতাগী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমীন বলেন, ‘অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ পাইনি।’ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আজম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’