ছেলের জন্য গর্বিত মা

দিনাজপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে নেমেই ফকিরপাড়ায় রাস্তার ধারে ছিমছাম  দোতলা বাড়ির ছাদে উড়ছে বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। বাতাসের তীব্রতা পতাকার উড়ন্ত ঝলকানিই বলে দিচ্ছে এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ভালো কিছু করবে।

রাস্তা থেকে নেমেই নতুন একটি দোতলা বাড়ি চোখে পড়ার মতো। ভেতরে ঢুকতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাসের বাবা বাচ্চু দাস এগিয়ে এলেন। মুখে পান চিবুতে চিবুতে বসতে বললেন ডাইনিংয়ের সোফায়। সোফার সঙ্গে দেয়ালে টাঙানো জাতীয় দলের খেলোয়াড় লিটন দাসের ছবিঘর ও সম্মাননা স্মারকের একটি দেয়ালিকা।

একটু পর ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেন লিটন দাসের বড় ভাই বাপ্পী দাস। মূলত বাপ্পী দাসের হাত ধরেই আজকের লিটন দাসের জন্ম। বাপ্পী দাসও খেলেন ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন লিগে।

এবারের বিশ্বকাপে দিনাজপুরের ছেলে লিটন দাস প্রথম খেলবেন। তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

লিটন দাসের বাবা বাচ্চু দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লিটন এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গেছে। এটা আমাদের কতটা গর্বের বিষয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শুধু লিটন দাসের এই অর্জনের জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যাতে সব খেলোয়াড়াই ভালো খেলতে পারে সেই আশীর্বাদও করছি।’ তিনি মনে করেন, ‘মাঠে বাংলাদেশের হয়ে যারাই খেলবে সবাই আমার ছেলে।’

মা অনিতা দাস ছেলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনিতা দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলেটা বিশ্বকাপ খেলতে গেছে এর থেকে গর্বের আর কী হতে পারে! ছেলেরা ভালো কিছু করলে সবচেয়ে বেশি খুশি হয় মায়েরা।’ তবে লিটন দাসের মা আরও একটি সুখবর দিলেন দর্শকদের জন্য। বিশ্বকাপ খেলা শেষ করে দেশে এলেই বিয়ে লিটন দাসের। আগামী ২৮ জুলাই লিটন দাসের বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। এখন ব্যাটে-বলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভালো কিছু করলেই লিটন দাসের আরেকটি নতুন ইনিংস শুরু হবে বিশ্বকাপের পরেই!