সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী।
নিহতদের মধ্যে তিনজন ঢাকায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতরা হলেন- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দূর্বাকান্দা গ্রামের ইস্তু মিয়ার ছেলে সাগর আহমদ (১৫), একই গ্রামের ফজল আলীর ছেলে মিলন মিয়া (১৬), মোহাম্মদ আলীর ছেলে আফজাল মিয়া (১৭), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা গাগলি গ্রামের নোমান (২৪) ও শাল্লা উপজেলার নিপেশ চন্দ্র দাশ (২২)। অন্য একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতদের পাঁচজন লেগুনার যাত্রী ও নোমান লেগুনার চালক।
নিহতদের মধ্যে সাগর আহমদ, মিলন মিয়া, আফজাল মিয়া ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। তারা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন বলে জানিয়েছেন দূর্বাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে লিমন পরিবহনের বাস একটি দিরাই উপজেলা সদরে যাত্রী নামিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে ফিরছিল। অন্যদিকে সদর উপজেলার মদনপুর থেকে দিরাই আসছিল যাত্রীবাহী একটি লেগুনা। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাথারিয়া ইউনিয়নের গনিগঞ্জ এলাকায় আসা মাত্র বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুই দিকে ছিটকে পড়ে বাস ও লেগুনা সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
এতে লেগুনায় থাকা পাঁচ যাত্রী ও চালক ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হয় লেগুনায় থাকা আরও চার যাত্রী। ঘটনার পর পরই স্থানীয় মানুষজন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নিতুন দাশ তালুকদার বলেন, “দুর্ঘটনা সকালে ঘটায় আমাদের ধারণা চালকদের চোখে ঘুম ঘুম ছিল, এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। খাদে পড়া বাস ও লেগুনাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।”