দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতার মোটরসাইকেল আটক করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিরল থানা-পুলিশের উপপরিদর্শকসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, বিরল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল বাবুল হক, সাগর আহমেদ ও মিজানুর রহমান।
পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল। তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে থানার গেটের সামনে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় বিরল উপজেলার ছাত্রলীগ সভাপতি সারোয়ার হোসেন রাসেলের (৩০) মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন এসআই নজরুল ইসলাম। মোটরসাইকেল আটকের পর তার কাছে বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চান তিনি। সে সময় রাসেল নিজেকে ছাত্রলীগ সভাপতি বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। সে সময় এসআই নজরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেলকে লাঞ্ছিত করে।
ওসি আরও বলেন, ‘পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী একত্রিত হয়ে থানার গেটের সামনে অবস্থান নেয় এবং পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে এবং পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার দাবি করে।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইফতারের কিছু সময় পূর্বে থানার সামনে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাইবাছাই চলছিল। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা আমার গাড়ি গতিরোধ করে কাগজপত্র দেখতে চায়। আমি নিজের পরিচয় দিই এবং বলি আমার গাড়ির কাগজপত্র সবই আছে। কিন্তু বাড়ি কাছে হওয়ায় কাগজপত্র সঙ্গে রাখিনি। এই কথা শোনার পরে তারা আমার গাড়ির চাবি নিয়ে নিলে আমি প্রতিবাদ করি এবং বলি আপনারা গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চেয়েছেন আমি এনে দিচ্ছি কিন্তু গাড়ির চাবি নিচ্ছেন কেন?
তিনি আরও বলেন, এই কথা শোনার পর তারা আমাকে এবং ছাত্রলীগকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমার গায়ে হাত তুলে আমাকে টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় অন্য পুলিশ সদস্যরাও আমার গায়ে হাত তুলে।’
পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চেকিং প্রোগ্রামে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাগজপত্র সঠিক না পেলে মামলা দেবে জরিমানা করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু কারও গায়ে হাত তুলতে পারবে না। পরে অভিযুক্ত পুলিশের একজন এসআই এবং ৩ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে দিনাজপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।’