মুন্সীগঞ্জে কারেন্ট জাল বানাচ্ছে তিন শতাধিক কারখানা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় তিন শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট জাল। এ উপজেলার রামপাল ও পঞ্চসার ইউনিয়ন জুড়ে এসব অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে এসব কারখানায় কারেন্ট জাল তৈরি হচ্ছে দেদার। এসব কারখানায় তৈরি কারেন্ট জাল ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। সরেজমিনে গত শনিবার পঞ্চসার ইউনিয়নের মালিপাথর, ফিরিঙ্গিবাজার, নয়াগাঁও, মুক্তারপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এসব কারখানায় অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরি হচ্ছে।

মূলত পঞ্চসার ইউনিয়ন ও রামপাল ইউনিয়নের প্রায় প্রতি বাড়িতেই অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদনের কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর, মালিপাথর ও ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় কারেন্ট জাল তৈরির কারখানার সংখ্যা বেশি। সদর উপজেলায় উৎপাদিত কারেন্ট জালের বেশির ভাগ শুধু পঞ্চসার ইউনিয়নের ওই তিনটি এলাকায় তৈরি হচ্ছে।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দসহ কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের আটক করে জেল-জরিমানা করেও কারেন্ট জাল তৈরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বড় আকারের উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক কারখানা বন্ধ হলেও ওই কারখানার যন্ত্রগুলো বাড়ি বাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে। বন্ধ হওয়া বড় কারখানাগুলোর দুই থেকে তিনটি করে মেশিন সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা কিনে নিয়ে নিজ ঘরে কারখানা গড়ে তুলেছেন। তারা ঘরে বসেই কারেন্ট জাল তৈরি করছেন। একেকটি যন্ত্রে ১০ থেকে ১২ পাউন্ড কারেন্ট জাল তৈরি হয়ে থাকে।

স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরে এসব জাল তৈরির কারখানার নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে স্থানীয়দের মতে, ছোট-বড় মিলিয়ে তিন শতাধিক কারখানায় সারা বছরই কারেন্ট জাল তৈরি হয়ে আসছে। আর বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কারখানায় কারেন্ট জাল তৈরির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। নারী-পুরুষের পাশাপাশি এসব কারখানায় শিশুরাও শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।

বেশ কটি কারখানা মালিকের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ছোট-বড় তিন শতাধিক কারখানায় অন্তত দেড় হাজার যন্ত্র রয়েছে। একেকটি যন্ত্রে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ পাউন্ড কারেন্ট জাল তৈরি সম্ভব। এ হিসেবে মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার পাউন্ড অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরি হয়ে থাকে। এক পাউন্ড কারেন্ট জাল উৎপাদনে ৩৫০ টাকা খরচ হয়। বাজারে পাউন্ডপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা লাভেই কারখানা মালিকরা এ জাল বিক্রি করেন। তবে খুচরা বাজারে জেলেদের হাতে পৌঁছাতে সেই দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ বিশ^াস বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেও অবৈধ জাল তৈরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে কারেন্ট জাল তৈরি বেড়েছে। এ ছাড়া অনেক বন্ধ কারখানার যন্ত্র শ্রমিকরা কিনে নিয়ে নিজেদের ঘরে ছোট আকারের কারখানা খুলে জাল তৈরি করছে।

তিনি আরও জানান, অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফাঁকের জাল বৈধ করা যায় কি না।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায়ই অভিযানের মাধ্যমে কারেন্ট জাল কারখানা বন্ধ ও সিলগালা করা হয়। জড়িতদের জেল-জরিমানাও করা হয়েছে। খবর পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।