বুড়োদের নিয়ে ভোগান্তি আছে শ্রীলঙ্কার

ইংল্যান্ডের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কতটা কঠিন হবে, তা শুরুতেই টের পাওয়া যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পাকিস্তান হেরেছে বাজেভাবে। ক্যারিবিয়ানরা যে পন্থায় পাকিস্তানকে হারিয়েছিল, ঠিক একইভাবে নিউজিল্যান্ড হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। উইকেটের পূর্ণ সহায়তা নিয়ে তারা নিয়ন্ত্রিত বল করে গেছে। বোলিংয়ে ছিল বৈচিত্র্য। দারুণ সব বাউন্সারে এবং সুইংয়ে লঙ্কার ব্যাটসম্যানদের কাবু করেছে। এরপর সহজ লক্ষ্য তারা অত্যন্ত পেশাদার ব্যাটিং দিয়ে ছুঁয়ে ফেলেছে বিনা উইকেটেই। বিশ্বকাপের মঞ্চে বরাবরই নিউজিল্যান্ডকে হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। এবারও আমি মনে করি, এই দলটির সেমিফাইনালে খেলার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। ব্যাটিং বলেন কিংবা বোলিং, তারা খুবই পেশাদার এবং ভদ্র। যাকে বলে একটি কমপ্লিট টিম এফোর্ট দিয়ে খেলে তারা।

বয়স্ক খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া শ্রীলঙ্কা লম্বা এই আসরে কতটুকু যেতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। এমন আসরের শিরোপা জিততে হলে চাই তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশেল। আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কা দলে তা নেই। শুরু থেকেই দেখবেন তাদের ব্যাটিং অর্ডার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কিউইদের গতির কীভাবে সামলাবে সেটাই যেন তারা বুঝে উঠতে পারেনি। এক করুনারতেœ একদিক ধরে রেখেছেন। কিন্তু তাকে সমর্থন দেওয়ার মতো কাউকে ব্যাট করতে দেখিনি। শ্রীলঙ্কার সংগ্রহটা আরও কম হতে পারত। শেষদিকে থিসারা পেরেরা কিছু রান করায় ১৩৬ হয়েছে। যা গাপটিল ও মুনরো আগ্রাসী ব্যাটিং করে খুব সহজেই টপকে গেছেন। মালিঙ্গাকে সেই আগের রূপে দেখা যায়নি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বোলিংয়ের ধারও কমেছে। আসলে বয়স বাড়ার সঙ্গে ফিটনেস একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই শ্রীলঙ্কা দলের অনেকের মধ্যেই এর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

একটা বিষয় কিন্তু পরিষ্কার হচ্ছে যে এশিয়ার দলগুলোর জন্য এই বিশ্বকাপ অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। তাদের উচ্চতা কম। বোলিংয়ের গভীরতাও কম। ভারতের কিছু লম্বা বোলার আছে। তাছাড়া আফগানিস্তানের হামিদ আসানের বল দুর্দান্তলেগেছে। এবারের বিশ্বকাপ কোকাবুরা বল দিয়ে খেলা হচ্ছে। এই বলের বিশেষত্ব হচ্ছে প্রথম ১০ ওভারে এর অনেক বেশি সুইং থাকে। ধীরে ধীরে সেটা কমে যায়। এই আসরে প্রথম ১০ ওভারে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। শ্রীলঙ্কা কিন্তু শুরুতেই ৩-৪ উইকেট হারিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আমার মতে, রানের জন্য তাড়াহুড়ো না করে যদি প্রথম ১০ ওভার টিকে থাকার দিকে মন দেওয়া যায় তবে সেই দলের বড় সংগ্রহ পাওয়া সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত যা দেখছি এশিয়ার দলগুলো এখনো হয়তো ইংলিংশ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি। যেসব উইকেটে ৩০০-৩৫০ হওয়া উচিত, সেখাতে তারা গুটিয়ে যাচ্ছে খুব কম রানে।