এবার গ্রীষ্মকালেই শুরু হয়েছিল রমজান মাসের রোজা। ফলে রমজানের শুরু থেকেই তীব্র তাবদাহে হাঁসফাঁস করছিল নারায়ণগঞ্জ নগরবাসী। দুই একদিন স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মিললেও বেশিরভাগ সময় নগরবাসীকে তীব্র তাবদাহে হাঁসফাঁস করতে হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ শহরে তাপদাহ ছিল। শহরবাসী স্বস্তির বৃষ্টির জন্য মুখিয়ে ছিলেন।
রোজার শেষের দিকে ২ জুন রোববার সকালে দেখা মিলল সেই স্বস্তির বৃষ্টির। প্রায় ৩০ মিনিটের মতো চলে বৃষ্টি। ৩ জুন সকালেও বৃষ্টির দেখা মিলেছে। তবে এই স্বস্তির বৃষ্টিতে শহরজুড়েই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলিগুলোতে পানি জমে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টার ঝুম বৃষ্টিতে পুরো শহর পানিতে তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে স্বস্তির বৃষ্টি বেদনায় রূপ নেয় নগরীর ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিপণি বিতানের বিক্রেতাদের মুখে।
ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই সময়ে বৃষ্টি হলে ক্রেতাদের দেখা পাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে দোকানদারদের জন্য। বন্ধ হয়ে যাবে তাদের বেচাকেনা। আবার অনেকেই বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য দোকানের উপরে ছাউনি দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো কোথাও আবার হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়।
এছাড়াও বিভিন্ন পাড়া মহল্লার সড়কগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। সেই সাথে উঁচু স্থানের সড়কগুলোতেও জলাবদ্ধতা দেখা যায়।
পথচারী ও নগরবাসী হেঁটে চলাচলের ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক স্থানে যান চলাচলও সম্ভব হয়নি। আবার কোথাও কোথাও যান চলাচল করলেও যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়েছে।
নগরবাসী বলছেন, “ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে একটু বৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় ফুটপাতে প্রচুর পরিমাণে পলিথিন জমে রয়েছে।
তাছাড়া নিয়মিত সড়কের ও ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় না। যে কারণে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
পথচারী নুরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, “প্রত্যেক বছর বৃষ্টির মৌসুম আসলেই জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে পা রাখা যায় না। বছরের পর বছর এই জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে এই সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের অবহেলার কারণে নগরবাসীকে প্রতিবছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বছরের পর বছর এই সংকট থেকেই যাচ্ছে।”
শহরের প্রাণকেন্দ্র তথা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, “এই জলাবদ্ধতা মূলত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো সমস্যা না, সমস্যা হচ্ছে ফুটপাতের হকারদের ব্যবহৃত পলিথিন। এই পলিথিন ড্রেনেরে মুখে জমাট বেঁধে থাকায় মুখ বন্ধ হয়ে থাকে। ফলে একটু বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলোতে পানি জমে যায়।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের পূর্বের ড্রেনগুলোর স্থলে ৮ ফুট গভীর ও ৫ ফুট চওড়া ড্রেনের প্রকল্প শুরু হবে অচীরেই। পলিথিনের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে এবং ড্রেন পরিষ্কার থাকলে শহরে আর পানি জমবে না।