পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি এবং সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠবে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতÑ এমন প্রত্যাশাকে ঘিরে ঈদ উৎসবের নতুন সাজে সাজানো হয়েছে বিপণিবিতান। রঙের নতুন আস্তরণে সেজেছে হোটেল-মোটেল-কটেজগুলো। ফাতরারবন, বাউলিবন, লেবুরবন, চরগঙ্গামতি, কাউয়ারচর, ঐতিহাসিক বৌদ্ধমন্দির, বিনোদনকেন্দ্র, দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলা পুলিশ।
একই সৈকতে দাঁড়িয়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রভাতের সূর্যোদয় আর গোধূলি বেলার সূর্যাস্ত অবলোকনসহ প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি, প্রাচীন পুরাকীর্তি, বৌদ্ধবিহার, প্রাচীন কুয়া, উপজাতি রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনাচারণ ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধনের জন্য দেশের অপরাপর পর্যটন কেন্দ্রের চেয়ে কুয়াকাটা দিন দিন হয়ে উঠছে জনপ্রিয়।
ফলে শুধু পর্যটন মৌসুম নয়, এখন সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত থাকছে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। বিভিন্ন উৎসব এবং ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের এ উপস্থিতি যায় আরও বেড়ে। এবারও ঈদের দুদিন আগে থেকেই কুয়াকাটায় সমাগম বাড়ছে পর্যটকের। অর্ধলক্ষাধিক পর্যটকের মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার আশা করছেন কুয়াকাটা সমুদ্রতটের পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
মিম রেস্টুরেন্টের মালিক কাওসার বলেন, ‘পুরো রমজান মাস কুয়াকাটা ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। আশা করছি পর্যটকের উপস্থিতিতে এবারের ঈদের হারানো সেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে জানান, এর মধ্যেই অধিকাংশ হোটেলের সত্তর ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের অতিরিক্ত সমাগমকে পুঁজি করে যাতে কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।
কুয়াকাটা ইলিশ পার্কের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ইলিশ পার্কে আাস শিশু থেকে সব বয়সী দর্শনার্থীর জন্য রয়েছে ভিন্নমাত্রার নানা আয়োজন। রয়েছে মধুমাসের নানা ফলের সমাহার।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, চার স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে।