পুরুষরা জনসমক্ষে কাঁদে না। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন কথা প্রচলিত আছে। শুধু পুরুষ নয়, জনসমক্ষে নারীদের কান্না নিয়েও আছে নানা বিধিনিষেধ। অথচ সামাজিক বিধি অনুসারে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সবার সামনে কাঁদা গ্রহণযোগ্য।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত এই সময়ে মানুষের হাতে আজ নেই জমে থাকা কষ্ট বা হতাশা দূর করতে কান্নার সময়। যে সময়টা তার কাঁদতে যাবে, সেই সময়ে তিনি চাইলে কিছু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। কারণ সময়টা এখন প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থ উপার্জনের।
জাপান এক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে এসেছে, যদিও আবেগহীন অভিব্যক্তির জন্য জাপানিরা বিশ্বে বিখ্যাত। দেশটির কিছু হোটেলে কান্নার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সেবা নিতে হলে আগে গ্রহীতাকে বুকিং দিতে হবে। তার বুকিং অনুসারে হোটেল কর্র্তৃপক্ষ ওই রুমে কিছু চলচ্চিত্র আর টিস্যুর ব্যবস্থা করে দেবে। পাশাপাশি আলোর মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয় যা মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে আবেগি করে তোলে।
দেশটিতে অবশ্য কর্মজীবী নারীদের কথা মাথায় রেখে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানের ইকেমেসো দাসি কোম্পানি ইতোমধ্যেই কান্না থেরাপি দিয়ে বেশ সুনামও কুড়িয়েছে। এই থেরাপির দুটি দিক আছে। চাইলে একজন একাকী এক রুমে বসেও কাঁদতে পারে। আবার চাইলে দল বেঁধেও কাঁদতে পারে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকী কাঁদার চেয়ে দল বেঁধে কাদায় উপকার হয় বেশি। জাপানের অনেক শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের প্রেষণা দানের অংশ হিসেবে এমন থেরাপির আশ্রয় নিচ্ছে।
সম্প্রতি লন্ডনের রেগে ক্লাবেও এমন পদ্ধতির সূচনা হয়েছে। মাসে এক দিন ক্লাবে রাগ-হতাশা নিবারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ চাইলে একটি নির্দিষ্ট রুমে প্রবেশ করে ইচ্ছেমতো যা খুশি ভাঙচুর করতে পারে। তবে এজন্য ওই ব্যক্তিকে গুনতে হবে অর্থ। ফ্রান্সের লুরদেস অঞ্চলের একটি ক্যাথলিক উপাসনালয়ে তিন বছর গবেষণার পর দেখা যায়, মানুষের অনেক রোগের সমাধান আছে কান্নার মধ্যে। দীর্ঘদিন কষ্ট চেপে রাখার ফলে মানব শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ব্যথা অন্যতম।
গবেষকরা বলছেন, কান্না থেরাপির ফলে মানুষ তার চেপে রাখা কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পারে। তবে আমাদের সমাজের কান্নাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ থেকে সরে আসা উচিত বলেও তারা মনে করেন। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করে।