জন্মেই বয়স এক বছর!

ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে যে শিশুটির জন্ম হলো ১ জানুয়ারি তার বয়স কত? এমন প্রশ্ন শুনে কেউ রেগে যেতে পারেন, কেউ বলতে পারেন ‘ফালতু’ প্রশ্ন। কারণ দিনের হিসাবে শিশুটির বয়স এক দিন মাত্র। আর সাল হিসাবে কেউ কেউ বলতে পারেন এক বছর। কিন্তু কোন হিসাব অনুসারে এক দিনের ওই শিশুটির বয়স হয় দুই বছর!

অবাক বা অদ্ভুত যা-ই লাগুক হিসাবটা ভুল নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্য অনুসারে ওই শিশুটির বয়স দুই বছরই ধরা হবে। বিদেশে কোনো কাজের জন্য দেশটির নাগরিকরা তাদের দুটি বয়স উল্লেখ করে। তারা সাধারণত যে বছর জন্মগ্রহণ করে, বয়স হিসাবের সময় তার বয়স আগের বছর থেকে ধরে। দেশটিতে কেউ যদি ১৯৯০ সালে জন্মগ্রহণ করে, তবে ২০১৯ সালে তার বয়স ২৯ বছর হলেও কোরিয়ার ঐতিহ্য অনুসারে বয়স ধরা হবে ৩০ বছর।

দেশটিতে একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে, তখনই তার বয়স ধরা হয় এক বছর। কোরিয়া বয়স গণনার এই ঐতিহ্য নিয়েছে চীন থেকে। চীনেও এই পদ্ধতিতে বয়স গণনা করা হতো। চীনের ঐতিহ্য ছিল যে দিন কোনো শিশু জন্ম নেবে, সেদিন থেকে তার জন্মের প্রথম বছর বা ‘হান সাল’ ধরা হবে। কেউ যদি ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ জন্মগ্রহণ করে, তবে তার বয়স ধরা হবে ‘দু সাল’।

আসলে চীনে শূন্যকে কোনো সংখ্যা হিসাব করা হয় না। তারা সবকিছুর গণনাই শুরু করে এক থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ভাষা ও লেখার ক্ষেত্রে চীনের পদ্ধতিকে অনুসরণ করা হয়েছে। সেই ঐতিহ্য রয়ে গেছে এখনো।

তবে বয়সের এই তালগোল পাকানো হিসাবের কারণে দেশের বাইরে নানা সময়ই হয়রানির শিকার হতে হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের। আর সে কারণেই দেশটির এক পার্লামেন্ট সদস্য হুয়াং জু হং অদ্ভুত এই প্রথা বাতিলের জন্য এক বিল উত্থাপন করেছেন দেশটির পার্লামেন্টে। তার মতে, দুই রকমের বয়সের কারণে নাগরিকদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সময় ও অর্থের অপচয়ও হয়। গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, হুয়াং জু হংয়ের বিলটি পাস হলে দেশটির নাগরিকরা এই হয়রানি থেকে বাঁচবে।

স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোতে আগে এমন পদ্ধতি অনুসরণ করে মানুষের বয়সের হিসাব রাখা হতো। কিন্তু ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক আমলে ডেনমার্ক-সুইডেনের মতো দেশগুলো প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসে। ধারণা করা হচ্ছে পরিবর্তিত বাণিজ্যিক বাস্তবতার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াও হয়তো অচিরেই এই পদ্ধতি থেকে সরে আসবে। পাশ্ববর্তী দেশ উত্তর কোরিয়ায় এমন পদ্ধতি আছে কিনা তা জানা যায়নি।