প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসক পলাতক, হাসপাতালের এমডি আটক

লক্ষ্মীপুরে ভুল চিকিৎসায় বিচিত্রা কর (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে এক বেসরকারি হসপিটালের এমডিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে শহরের উপশম (প্রা:) হসপিটালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে হসপিটাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন প্রসূতির স্বজনরা। পুলিশ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুদ্দিনকে আটক করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক বসাক কুমার পলাতক রয়েছেন।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচিত্রাকর পৌর শহরের শাখারী পাড়া এলাকার বাবলু করের স্ত্রী।

পুলিশ ও মৃতের স্বামী বাবলু কর জানায়, সকালে তার স্ত্রীকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে হাসপাতালটির গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. বসাক কুমারের নির্দেশে তাকে উপশম প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

বিকেলে ওই চিকিৎসক প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজার করার পর তিনি একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেন। রাত সাড়ে ৮টায় প্রসূতির পেটে ব্যথা শুরু হলে আবারও তাকে রাত ৯টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২ য় অপারেশনে তার জরায়ু কেটে ফেলা হয়।

বাবলু কর অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে আমরা কয়েক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তারা সঠিক চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়।

সিজারের পর রোগীর জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনাকে স্বজনরা ভুল চিকিৎসা দাবি করে রোগীর মৃত্যুর প্রতিবাদ জানান। এ সময় স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. বসাক কুমার আত্মগোপন করেন এবং কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। ডা. বসাকের সঙ্গে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. কাউছার রোগীর মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দাবি করে জানান, রোগীর বেশ কিছু সমস্যা ছিল তা আমাদের রোগীর আত্মীয়স্বজনরা বলেননি। সিজারের পর চিকিৎসক ২য় দফায় জরায়ুর টিউমার অপারেশন করেন।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের এমডিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।