সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চরবর্নিয়া গ্রামের স্কুলছাত্র ইউনুস আলীকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানায়, ঈদের আগের দিন গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আখের শেখ খেয়াঘাট থেকে বাঁশের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছুটিতে আসা সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক তারাব আলী ওরফে পলাশ মোল্লা ও তার লোকজন অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আখের শেখকে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আখেরের বাম হাতের দুটি আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আখের গ্রুপের লোকজন সৈনিক পলাশের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
গ্রামবাসীর দাবি, পুলিশ এ সময় ওই সৈনিকের পক্ষ নিয়ে সরাসরি নিরীহ উৎসুক জনতার ওপর গুলি ছোড়ে। এতে স্কুলছাত্র ইউনুস গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
তবে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান এলাকাবাসীর এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা সৈনিক তারাব আলী ওরফে পলাশ মোল্লা পুলিশের হাত থেকে শটগান কেড়ে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালায়। এতে প্রতিপক্ষ জয়নাল শেখের ছেলে ইউনুস আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
ওসি আরও জানান, আটক সৈনিক তারাব আলী ওরফে পলাশ মোল্লা চরবর্ণিয়া গ্রামের হেলাল মোল্লার ছেলে। তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে (পিজিআর) কর্মরত। ছুটিতে গ্রামে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ হত্যার ঘটনায় নিহত ইউনুসের বাবা জয়নাল শেখ বাদী হয়ে সৈনিক পলাশ মোল্লাসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সৈনিক তারাব আলী ওরফে পলাশ মোল্লা, মাসুদ, শুকুর, কাশেম, সায়েম, শাহিন, নিকসন, উজ্জল, মোহাম্মদ আলী ও সোহেল।