ইংলিশদের বিপক্ষে চার জয়ের দুটিই বিশ্বকাপে

বিশ্বকাপের শেষ দুটি আসরে ইংল্যান্ডকে দুবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ২০ বারের দেখায় চারবার জিতেছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড জিতেছে বাকি ১৬ ম্যাচ। ইংল্যান্ডকে টাইগাররা প্রথম হারিয়েছিল ২০১০ সালে ব্রিস্টলে। ৫ রানের সেই জয়ের পর ২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রামের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টা ছিল ২ উইকেটের। তবে ইংলিশদের বিপক্ষে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জয় এসেছে গত বিশ্বকাপে। অ্যাডিলেড ওভালে ১৫ রানের দুর্দান্ত জয়ে ইংল্যান্ড ছিটকে যায় বিশ্বকাপ থেকে আর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ জয় ২০১৬ সালে ঢাকায় তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে। বাংলাদেশ জিতেছিল ৩৪ রানে। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে জয়ের হ্যাটট্রিক পূরণ করার সুযোগ আজ পাচ্ছে মাশরাফীরা। তার আগে চোখ ফেরানো যাক সেই সুখস্মৃতিগুলোতে।

 

১০ জুলাই, ২০১০, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড

 

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর সেবার বাংলাদেশ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ শুরু করে ৬ উইকেটের হার দিয়ে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য ৫ রানের স্মরণীয় জয়ে বিলেতের মাটিতেই স্বাগতিকদের প্রথমবারের মতো হারের লজ্জায় ডোবায় বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের ১১১ বলে ৭৬ এবং জহুরুল ইসলাম অমির ৫৩ বলে ৪০ রানে ভর করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে তোলে ২৩৬ রান। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ২৪ এবং মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ২২ রান করেন। আজমল শাহজাদ ৪১ রানে নেন ৩ উইকেট। সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ড ২৩১ রানে গুটিয়ে গেলে তিন বল বাকি থাকতে জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে মাশরাফী, আবদুর রাজ্জাক, শফিউল ইসলাম, রুবেল হোসেন এবং সাকিব আল হাসান ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ২৫ বলে ২২ রানের কার্যকরী ইনিংসের পর বল হাতে ইংল্যান্ডের শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়ে ৫ রানের জয় নিশ্চিত করে মাশরাফী হন ম্যাচসেরা। সেই জয়ের পর অবশ্য তৃতীয় ওয়ানডে হেরে বাংলাদেশ সিরিজ হারে ২-১-এ।

 

১১ মার্চ ২০১১, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

 

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করতে বাংলাদেশ চেয়েছিল গ্রুপ পর্ব উতরে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাতে। ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর আয়ারল্যান্ডকে দ্বিতীয় ম্যাচে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ৯ উইকেটে হারে সে স্বপ্নে লাগে বড়সড় ধাক্কা। পরের ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান তৎকালীন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ২২৫ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। নাঈম ইসলাম, রাজ্জাক এবং সাকিব ২টি করে উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল ভালো শুরু এনে দেন দলকে। তামিম ২৬ বলে ৩৮ রান করে ফিরে গেলেও ইমরুল ১০০ বলে ৬০ রান করেন। মাঝখানে সাকিব ৫৮ বলে ৩২ করার পর নবম উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে (৪২ বলে অপরাজিত ২১) নিয়ে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ২ উইকেটে জয়ের আনন্দে মাতান শফিউল ইসলাম। তিনি খেলেন ২৪ বলে ২৪ রানের কার্যকর ইনিংস। যদিও ম্যাচসেরা হন দলকে জয়ের ভিত্তি দেওয়া ইমরুল।

 

৯ মার্চ ২০১৫, অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া

 

গ্রুপ পর্ব টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের সামনে। সাত দলের ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেরা চারে লড়াইটাও ছিল এই দুই দলের। সেই লড়াইয়ে ইংলিশদের কাঁদিয়ে ১৫ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮ রানের দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারকে নিয়ে ইনিংস নতুন করে গড়ার দায়িত্ব নেন মাহমুদউল্লাহ। ৮৬ রানের জুটি গড়ে সৌম্য ৫২ বলে ৪০ রানে ফিরলে সাকিবকে তারা হারায় ২ রানে। এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ১৩৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ পাইয়ে দেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকানো মাহমুদউল্লাহ (১৩৮ বলে ১০৩)। এটি ছিল বিশ্বকাপেও কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের প্রথম সেঞ্চুরি। মুশফিক ৭৭ বলে ৮৯ রানের ধুন্ধুমার ইনিংস খেললে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৭৫ রান। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশি পেসারদের বোলিং তোপে সুবিধা করতে না পেরে ইংল্যান্ড নয় বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ২৬০ রানে। রুবেল হোসেন ৫৩ বলে ৪ উইকেট নেন। ২ উইকেট করে শিকার মাশরাফী এবং তাসকিন আহমেদের।

 

৯ অক্টোবর ২০১৬, ঢাকা, বাংলাদেশ

 

বিশ্বকাপে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগটা ইংল্যান্ড পেয়ে যায় পরের বছর বাংলাদেশ সফর করতে এসে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজটা তারা জিতে নিয়েছিল ২-১-এ। যদিও সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেটা দারুণ অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশকে ৩৪ রানে জেতান অধিনায়ক মাশরাফী। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক (২৩ বলে ২১) ও মোসাদ্দেকের (৪৯ বলে ২৯) সঙ্গে দুটি কার্যকর জুটি গড়ে মাহমুদউল্লাহ বিদায় নেন ৮৮ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে। শেষদিকে নাসির হোসেনকে (অপরাজিত ২৭ বলে ২৭) নিয়ে আগ্রাসী ব্যাট চালিয়ে ২৯ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন মাশরাফী। তাতে বাংলাদেশ ৮ উইকেট হারিয়ে পায় ২৩৮ রানের লড়াই করার পুঁজি। জবাব দিতে নেমে অবশ্য মাশরাফীর বোলিং তোপের মুখে পড়তে হয় ইংলিশদের। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়সেরা বোলিং করে অধিনায়ক তুলে নেন ২৯ রানে ৪ উইকেট। এছাড়া তাসকিন ৪৭ রানে ৩ উইকেট নেন। ইংল্যান্ড ৫.২ ওভার বাকি থাকতে অল আউট হয় ২০৪ রানে। বাংলাদেশ পায় ৩৪ রানের জয়।