অ্যালান বোর্ডার অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ১৯৮৭ সালে উপমহাদেশ থেকে তার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অজিরা। রিকি পন্টিংও অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তার অসাধারণ সেঞ্চুরিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দল। সাবেক দুই অজি অধিনায়ক তাই কীভাবে বিশ্বকাপ জিততে হয় তা ভালো বোঝাতে পারবেন উত্তরসূরিদের।
ওভালে আজ অস্ট্রেলিয়া খেলবে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে ভারত হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ফুরফুরে মেজাজে। আশা করা হচ্ছে আজ সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে দুই হট ফেভারিটের। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের পেস আক্রমণকে সমীহ করছেন পন্টিং। বিশেষ করে জসপ্রিত বুমরাহকে। এই ভারতীয় পেসার সম্পর্কে পন্টিং বলেছেন, ‘নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করতে পারে বুমরাহ। আমি নিশ্চিত, বুমরাহ আমাদের ব্যাটসম্যানদের শর্ট বল ও ফুল বলের পরীক্ষা নেবে। তবে আপনাকে খেলতে হবে। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে আসা বল আপনি কীভাবে খেলছেন, তার ওপর টিমের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে।’ তবে অন্য পেসার ভুবনেশ্বর কুমারকে নিয়ে বেশি চিন্তিত নন পন্টিং। তিনি বলেছেন, ‘ভুবনেশ্বরের পেস বা বাউন্সার নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার আছে বলে মনে হয় না। হার্দিকের পেস খারাপ নয়। আমার মনে হয়, ওরা একজন রিস্ট স্পিনার কমিয়ে অফ স্পিনার অলরাউন্ডারকে (কেদার) সেকেন্ড স্পিনার রাখতে পারে। সে ক্ষেত্রে আরও একজন পেসার বাড়বে।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া জিতলেও পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে রানের জন্য সংগ্রাম করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে পন্টিং বলেন, ‘পুরো ম্যাচটাই (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) আমাদের কাছে একটা ওয়েক আপ কল। আজ রবিবার বিশ্বের দুই নম্বর টিম ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ। আমাদের টপ অর্ডারকে দেখে ওরা যদি একজন বাড়তি পেসার খেলায়, আমি অন্তত অবাক হব না।’
ভারতীয় দল সম্পর্কে আইসিসির ওয়েবসাইটে নিজের কলামে কিংবদন্তি অ্যালান বোর্ডার লিখেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা খারাপ খেলেনি। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ওরা যথেষ্ট রান তুলতে পারেনি। রোহিত শর্মা বাকি কাজটা শেষ করেছিল। ভারতীয় টিম অপরাজেয় নয়। তবে ওদের টিমে বেশ কিছু ম্যাচ উইনার আছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জসপ্রিত বুমরাহরা কিন্তু সহজ হবে না।’ অস্ট্রেলিয়া দল সম্পর্কে তিনি লেখেন, ‘সেরাটা না দিয়েই যদি কোনো দল ম্যাচ জেতে, তারা কিন্তু নিজেদের সেরা বানানোর আরও চেষ্টা শুরু করে দেয়। আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরিস্থিতিটা এখন সেই রকমই। এটা নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই যে, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ। এই রকম কয়েকটা কঠিন ম্যাচ খেললে কিন্তু টিমটা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, কতটা শক্তি, কতদূর তারা যেতে পারবে টুর্নামেন্টে, সেটা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়ে যাবে।’ এবারের বিশ্বকাপ যে সবার জন্য উন্মুক্ত সেটাও বলেছেন তিনি, ‘সব টিমই এটা প্রমাণ করছে যে, তারা অন্যদের হারানোর ক্ষমতা রাখে। আর সেটা বিশ্বকাপের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে দেখা গিয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো টিমই খুব বেশি এগিয়ে নেই।’ অস্ট্রেলিয়া ধীরে ধীরে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। এরপর তুখোড় উইন্ডিজকে লড়াই করে হারায় তারা। আজ ভারতের বিপক্ষে অজিদের চূড়ান্ত পরীক্ষা।