ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী কয়েক দফা বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুনর্নির্মাণ হলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়াবাসীর দুঃখদুর্দশার লাঘব হয়নি। বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। জোয়ারের প্লাবনে এখানকার মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনা।
জেলার কলাপাড়ার রাবনাবাদ নদী পাড়ের লালুয়ায় গড়ে উঠছে দেশের পায়রা সমুদ্র বন্দর। এ বন্দরকে ঘিরে এখানে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও রাবনাবাদ পাড়ের এ এলাকার মানুষের দুঃখের সীমা নেই। গত কয়েক বছর যাবৎ ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ফলে বছরের প্রায় ছয় মাস জোয়ার ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে এই এলাকার সতেরোটি গ্রামের পঁচিশ হাজার মানুষ। বেড়িবাঁধ না থাকায় শত শত একর কৃষি জমি হয়ে পড়েছে অনাবাদি। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে যখন ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। সেই সময়টায় অসহায় হয়ে পড়ে তারা। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পায়রা সমুদ্রবন্দরের জেটি নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এ এলাকার প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণ চলছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণে পায়রাবন্দরের অনাপত্তিপত্রের জন্য গত কয়েক বছর যাবৎ বন্দর কর্র্তৃপক্ষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। আর সে কারণেই গত এক দশকেও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
চারিপাড়ার বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বছরের প্রায় ছয় মাস প্রতিদিন জোয়ারে প্লাবিত হয় আবাদি জমি, বাড়ি-ঘর, পুকুর-ঘের। একই এলাকার নুর নাহার বেগম বলেন, ভাটার সময় রান্না করি জোয়ারের সময় ঘরের মাচায় বসে খাই। কোনো কোনো দিন রান্না করতে না পেরে ছেলেমেয়ে নিয়ে উপোস করতে হয়।
চারিপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সেবাহান বলেন, জোয়ারের সময় নৌকা আর কলা গাছের ভেলা চলাচলের একমাত্র উপায়। জীবন শংকার ভয়ে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। বানাতীপাড়ার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। স্থায়ী বেড়িবাঁধের বাস্তবায়ন চাই।’
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফণি পরবর্তী দুর্গত এই এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। এ সময় তিনি বলেন, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই দপ্তরের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পায়রাবন্দরের অনাপত্তি পত্র পাওয়া গেছে। প্রকল্প প্রস্তবনা তৈরি করে খুব দ্রুতই বাঁধ নির্মাণ করা যাবে।