ভারতের সাংস্কৃতিক জগতের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব গিরীশ কারনাড চলে গেছেন সবাইকে ছেড়ে।
পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, সাহিত্য আকাদেমি ও একাধিক জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত গিরীশ কারনাডের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশটির বিনোদন জগৎ।
তার মৃত্যুর খবরটি পেয়ে শোকবার্তা জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, কমল হাসান, আর মাধবন, অনিল কাপুর, ফারহান আখতার, সুধীর মিশ্র।
বাংলা বিনোদন জগতের সঙ্গেও তার নিবিড় যোগাযোগ ছিল।
নাট্যকার-পরিচালক গিরীশ কারনাড তার নাট্য প্রযোজনা নিয়ে একাধিকবার এসেছেন কলকাতায়, নান্দীকার নাট্য়োৎসবে বহুবার মঞ্চস্থ হয়েছে তার নাটক।
অভিনেতা-পরিচালক কমল হাসান তার শোকবার্তায় লেখেন, 'শ্রী গিরীশ কারনাড এর লেখাগুলি আমাকে মুগ্ধ করে, অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি চলে গেলেন, পিছনে ফেলে গেলেন অসংখ্য গুণমুগ্ধ লেখককে। তাদের কাজই সম্ভবত এই অপূরণীয় ক্ষতিকে খানিক সহ্য করে নিতে সাহায্য় করবে।'
অভিনেতা অনিল কাপুর লেখেন, 'আমার সঙ্গে গিরীশ কারনাডের দেখা হয় যখন তিনি ফিল্ম ইন্সটিটিউটের প্রিন্সিপাল। ওই সময় তার সঙ্গে ‘পুকার’ ছবিতে কাজ করেছি। প্রসিদ্ধ নাট্যকার তো বটেই, পাশাপাশি একজন বড় মাপের মানুষ ছিলেন। তার গল্পগুলি চিরদিন আমাদের হৃদয়ে, আমাদের মগজে থেকে যাবে। তার পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল।'
বাংলা থিয়েটারের অন্যতম স্তম্ভ, অরুণ মুখোপাধ্যায় ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে জানান, 'গিরীশ অত্যন্ত দক্ষ নাট্যকার সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার বহু উল্লেখযোগ্য নাটক রয়েছে। তার মধ্য়ে একটি পড়ে অত্যন্ত চমৎকৃত হয়েছিলাম, যেটি পরে শঙ্খ ঘোষ অনুবাদ করেছেন– ‘হয়বদন’। তাছাড়া গিরীশ খুব ভালো সংগঠক ছিলেন। দীর্ঘদিন সঙ্গীত নাটক আকাডেমির চেয়ারম্যান ছিলেন। দক্ষ অভিনেতা তো ছিলেন, সেটা বলাই বাহুল্য। তার প্রত্যেকটি কাজের মধ্যেই পেশাদারী পারদর্শিতা ছিল। নাট্যকার হিসেবে গিরীশকে আমি মোহিত চট্টোপাধ্যায়, বাদল সরকার-এর মাপেরই মনে করি।
অনুপম খের তার শোকবার্তায় লেখেন, ''শ্রী গিরীশ কারনাড এর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। তিনি একজন বিরাট মাপের শিল্পী ছিলেন, একজন অসাধারণ নাট্য়কার ছিলেন। তার পরিচালনায় আমার চলচ্চিত্র জগতে প্রথম খুবই ছোট একটি চরিত্রে কাজ করার সুযোগ আসে, উৎসব ছবিতে। পরে তার দু’টি নাটক, ‘তুঘলক’ ও ‘হয়বদন’ নাটকে অভিনয় করেছি… ওম শান্তি।''