ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর দাবি

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি। রানওয়ে ছাড়া অধিকাংশ জমি এখন ফসলের মাঠ, আর বেহাত হয়েছে বেশ কিছু জমিও। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরটি চালুর দাবি করে এলেও আলোর মুখ দেখছে না।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরধথেকে ওড়ে না বিমান। তাই বলে মুখ থুবড়ে পড়ে নেই এ বন্দরটি। এই বিমানবন্দরের জমিতে পুরোদমে চলছে চাষাবাদ। বন্দরের জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা, গম, আলুসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছেন স্থানীয়রা। আবার এই সুযোগে একটি মহল নেমেছে জমি দখল করতে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

১৯৪০ সালে ব্রিটিশ শাসন আমলে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ এলাকায় সাড়ে ৫০০ একর জমিতে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এর যোগাযোগ ছিল। সে সময় ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে নিয়মিত বিমান চলাচল করত। কিন্তু ১৯৭৯ সালে লোকসানের অজুহাতে এই বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে মেরামত, টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, বিদ্যুতায়নের কাজসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করা হয়। এয়ার বেঙ্গল ও বোরাকসহ ৬টি বেসরকারি সংস্থা ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে স্টল বিমান সার্ভিস চালু করার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে। কিন্তু চুক্তি আর বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা এ বিমানবন্দরটি চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এলাকার ব্যবসায়ী মামুন অর রশিদ বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দৃশ্যপট পরিবর্তন হবে।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহাগ বলেন, এটি চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে এলাকাবাসী। প্রধানমন্ত্রী এই দাবি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।

সম্প্রতি রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ বিমানবন্দরটি চালু হওয়ার আশ্বাস দেন।