নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরে সরকারি গেজেট চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনটির শুনানি হবে আজ। গতকাল সোমবার এই শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আবেদনের সঙ্গে সম্পূরক নথি হলফনামা আকারে দাখিলের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা সময় চান। পরে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে আজ মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করে। এর আগে গত ২৮ মে আংশিক শুনানি নিয়ে ১০ জুন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছিল হাইকোর্ট।
গতকাল আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমদ ও এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
গত ২৬ মে এই রিট আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল জানান, রিটে বিশেষ জজ আদালত-৯ পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে স্থানান্তরে গত ১২ মে আইন মন্ত্রণালয় যে গেজেট জারি করেছিল তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে নাÑ এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। আর রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের একটি ভবনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার বিচারকাজ চলছিল।
গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছর এবং অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত-৫। রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে রাখা হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হলে গত বছর ৩০ অক্টোবর এক রায়ে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট। এর আগের দিন ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। কারাবন্দি খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন।