অজিদের ভাবনায় পাকিস্তানের সঙ্গে বৃষ্টিও

দশ দলের বিশ্বকাপে বৃষ্টিও কি একটা দল হিসেবে ঢুকে পড়ল নাকি?

কেন এই প্রশ্ন উঠছে তা বোধহয় এতক্ষণে বুঝে ফেলেছেন। চলতি বিশ্বকাপে বৃষ্টির কারণে তিন ম্যাচ পণ্ড। এটা কিন্তু রেকর্ড। ইংল্যান্ডের আকাশ যেভাবে মেঘে মেঘে মল্লার গাইছে তাতে আরও কিছু ম্যাচ যে বৃষ্টিতে ভেসে যাবে তা বলাইবাহুল্য। এই সম্ভাবনার কারণেই হয়তো টনটন নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছেন অ্যারন ফিঞ্চ।

বিশ্বকাপে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রেলিয়া, শেষ ম্যাচে যারা ভারতের কাছে ৩৬ রানের পরাজিত হয়েছিল। ওভালের সেই ম্যাচে হারের সঙ্গে অজিদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কাস স্টয়নিসের ইনজুরি। সাইড স্ট্রেন্থের কারণে তার বিশ্বকাপ শেষ কি না জানা না গেলেও টনটনে যে নামতে পারবেন না তা নিশ্চিত। তার বদলে কি আজ শন মার্শ খেলবেন? এই প্রশ্নে সঙ্গে আরও একটা প্রশ্ন ঘুরছে, খেলা হবে তো? আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, শুরুতে রোদ উঠলেও পরে মেঘ আসবে টনটনের আকাশে। বৃষ্টির জোর সম্ভাবনা। মানে বৃষ্টি হবেই এমন নয়, তবে ইংলিশ ওয়েদার বলে কথা। ফিঞ্চ তাই বিশ্বাস পাচ্ছেন না। ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচটা ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। পয়েন্ট ভাগাভাগির পর সেদিন সরফরাজ আহমেদ বলেছিলেন, ‘ইংল্যান্ড ম্যাচ জেতার পর থেকে সবাই পাকিস্তানকে ভয় পাচ্ছে। আমাদের মনোবল তুঙ্গে, ড্রেসিংরুম আত্মবিশ্বাসী। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে সেরাটা দেওয়ার জন্যই নামব আমরা। অস্ট্রেলিয়া ভালো টিম। কিন্তু ওই ম্যাচের আগে আমরা আরও ভালোভাবে নিজেদের তৈরি করে নিতে পারব। অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে এখন থেকেই ভাবনা শুরু করে দিচ্ছি আমরা।’ ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা আলুথালু পাকিস্তানের কি বিরাট পরিবর্তন। একটা জয়ে বদলে যাওয়া এই পাকিস্তানকে ভয়ংকর বলছেন ফিঞ্চ, ‘আমার মনে হয় পাকিস্তান ভয়ংকর দল। আমরা ধারাবাহিকভাবে দেখে আসছি আইসিসি টুর্নামেন্টে তারা প্রচুর ম্যাচ জেতে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তারা অসাধারণ খেলেছিল। সুতরাং আগে কেমন খেলেছে এটা বিবেচ্য নয়, পাকিস্তান সবসময় ভয়ংকর।’

এই ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। আবার বিশ্বকাপ মিশন শুরুর দুই মাস আগে আরব আমিরাতে অ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০-তে উড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। সেই দলে ওয়ার্নার ও স্মিথ ছিলেন না। এবার আছেন। তারপরও ভয় পাচ্ছে না পাকিস্তান। কারণ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১০৫ রানে অল আউট হওয়ার দুঃস্বপ্ন হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পেছনে ফেলেছে তারা। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাজে রেকর্ডেও ভয় নেই সরফরাজদের। শেষ ১৪ ম্যাচে একবার মাত্র অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পেরেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপেও অজিদের রেকর্ড ভালো। কিন্তু ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়ার কাছে করুণভাবে হেরেছিলেন ওয়াসিম আকরামরা। তাছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে আট ম্যাচের পাঁচটিতে পাকিস্তানকে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাতে অবশ্য কিছু এসে যায় না সরফরাজের, ‘আমার মনে হয় ওসব এখন অতীত। আমরা সেসব ম্যাচ নিয়ে এখন আর ভাবছি না। আমরা কেবল আগামীকালের (বুধবার) ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। এখন আমাদের মনোবল তুঙ্গে। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেব।’ পাকিস্তান নিজেদের সেরাটা দিলে কী হতে পারে তা ট্রেন্ট ব্রিজে টের পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার কি টনটনে টের পাবে অস্ট্রেলিয়া?