চীনের ইউনান প্রদেশ মধু সংগ্রহ ও শিকারিদের জন্য। কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক উভয় উপায়েই এই প্রদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মধু উৎপাদিত হয়। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এই মধু বিশ্বের অনেক দেশেও রপ্তানি করে চীন। কিন্তু এই মধু শিকারিদের গল্প অজানাই থেকে যায় বিশ্ববাসীর কাছে।
সম্প্রতি আলোকচিত্রী কেভিন ফ্রেয়ার ইউনানে গিয়েছিলেন মধু শিকারিদের সন্ধানে। প্রদেশে পাহাড়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৌচাকের একটি বড় অংশই পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে হয়। পাহাড়ের বিভিন্ন খাঁজে হওয়া এই মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে প্রায়ই জীবনের ঝুঁকি নিতে হয় শিকারিদের।
প্রদেশের লিসু অঞ্চলের মানুষ বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঞ্চলটি মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা উন্নতমানের মধুর জন্য খামারে মৌচাষ করার বদলে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে প্রকৃতির মধ্যে কৃত্রিম চাক তৈরি করেন। ওই চাকেই মৌমাছিরা জড়ো হতে শুরু করে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় ওই চাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।
কেভিনের মতে, পাহাড়ে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মধু শিকারির মৃত্যু হয় দুর্ঘটনাজনিত কারণে। তবে এই মৃত্যুর কারণ অনেকাংশেই মৌমাছিদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে। শিকারিরা যদি আগুন জ্বালিয়ে চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন, তবে পরের বছর আর ওই চাকে মৌমাছিরা আসবে না। ফলে শিকারিরা চাকের কোনো ক্ষতি না করে হাজার বছরের পুরনো পন্থা অনুসরণের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করেন।
চীনের বাজারে প্রাপ্ত মধুর মধ্যে পাহাড়ের খাঁজে উৎপাদিত মধুর কদর সবচেয়ে বেশি। এর দামও অন্য মধুর তুলনায় বেশি। এক কিলোগ্রাম মধু প্রায় ৫০ ডলারে বিক্রি হয়। পাহাড়ি মধুতে বিভিন্ন ফুলের নির্যাস থাকে, যা চীনে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া এই মধুর রয়েছে সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহার। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান