মাছেরাও ভালোবাসে...

বাংলায় একটা প্রবাদ-প্রবচন আছে মাছের মায়ের পুত্রশোক। কেউ কপট বেদনাবোধ প্রকাশ করছেন এমন বোঝাতেই প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়। আসলে মাছের ক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেক ডিম দেয় ও ঝাঁকে ঝাঁকে বাচ্চা ফোটায় বলে ভাবা হয় যে মাছের মায়ের তার সন্তানদের প্রতি কোনো দরদ নেই। আবার অনেক ভাইবোনের মধ্যে মাছের পোনারাও পরস্পরকে চেনে না এমন ধারণাও প্রচলিত আছে।

তবে ফরাসি একদল গবেষক দাবি করেছেন, মাছেরও মানুষের মতো ভালোবাসার অনুভূতি আছে। মাছও সঙ্গীর বিয়োগে মানুষের মতোই আবেগ আপ্লুত হয়, কষ্ট পায়। ফ্রেঞ্চ ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দেখেছেন, ঠিক মানুষ যেভাবে তার সঙ্গীর বিষয়ের চ্যালেঞ্জ নেয় বা তার জন্য কষ্ট বা সুখ অনুভব করে মাছের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটে।

চিচলিড নামে ক্ষুদ্র এক প্রজাতির মাছের ওপর গবেষণা চালিয়ে তাদের মনোভাব ও আবেগ পরিমাপ করেছেন গবেষকরা। দেখা গেছে, মধ্য আমেরিকার আদি এই নিবাসীদের মধ্যে ৩৩টি নারী মাছকে একটি পুরুষ মাছ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর তারা নারী মাছগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখেন, নারী মাছগুলো যখন কোনো পুরুষের সঙ্গ না পেয়ে একা থাকছে মানে তার সঙ্গী হিসেবে পুরুষ মাছটিকে পছন্দ হয়নি তখন সে  হতাশাগ্রস্ত হয়ে উঠছে।

কয়েক ধাপে ধারাবাহিকভাবে এই গবেষণাটি করা হয়। বিভিন্ন ধাপে মাছগুলোকে পাত্রের আকার, পানির রং, পুরুষ সঙ্গীর আকার ইত্যাদি বিষয়ে নানা ধরনের প্রশিক্ষণও দেন গবেষকরা। গবেষকরা দেখেন, যেসব নারী মাছ পুরুষ সঙ্গীকে পেয়েছে তারা রঙের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।