পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন

গড় আয়ু ৭২ ছাড়িয়েছে

দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল বাড়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৮ সাল শেষে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৩ বছরে। আগের বছর প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ছিল ৭২ বছর। ২০১৪ সালে ৭০ দশমিক ৭ বছর থেকে পরবর্তী চার বছরে দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ১ দশমিক ৬ বছর। বর্তমাণে পুরুষদের গড় আয়ু ৭০ দশমিক ৮ বছর। আর নারীদের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৮ বছর। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল এক অনুষ্ঠানে রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০১৮ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিবিএস মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার। আর নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ২৭ লাখ। দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মুসলিম। হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যা হচ্ছে ১১ দশমিক  ৬ শতাংশ। গত তিন বছরে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যার অনুপাত একই রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মানুষের জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। ২০১৮ সালে শতকরা ৬৩ দশমিক ১ জন জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। পল্লী অঞ্চলের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ ও শহরের ৬৪ শতাংশ মানুষ জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এর মধ্যে আধুনিক জš§নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,  মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। ফলে গড় আয়ু বাড়ছে। মানুষের বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। এটি সরকারের কার্যক্রমের ফসল। আগে বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি খোলা পায়খানা ছিল। এখন তেমনটি নেই। এখনো ৩২ লাখ মানুষ খোলা জায়গায় পায়খানা করে। এই সংখ্যা কম নয়। এরই মধ্যে হাওর অঞ্চলে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর এসব তথ্যের বিশ^াসযোগ্যতা রয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন।

নজিবুর রহমান বলেন, এখন মানুষ অনেক বেশি সুচিকিৎসা পাচ্ছে। সুশিক্ষাও পাচ্ছে। তা ছাড়া জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দেশে যে উন্নত হচ্ছে তার প্রতিফলন ঘটেছে এই আয়ুষ্কাল বাড়ার মধ্যে। শতকরা ৯০ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। এটি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রেও সফলতা এসেছে।

এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, আগে পুরুষরা বেশি বাঁচত। এখন মহিলারা বেশি বেঁচে থাকতে পারে। নারীরা আগে পরিবারের সবার শেষে খেতে বসত। ফলে তারা অপুষ্টিতে ভুগত। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। মহিলারা অনেক সচেতন হয়েছে। তা ছাড়া মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার কমেছে। ফলে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার মধ্যে ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত। পুুরুষদের শিক্ষার হার ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মহিলাদের ৭১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে শিক্ষার হার ছিল ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। এ হিসাবে ২০১৮ সালে শিক্ষার হার বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ৭ বছর ও তার ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার মধ্যে সাক্ষরতার গড়হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৭ সালে এ অংশের সাক্ষরতার হার ছিল ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ।