সুধারামে চর উরিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের ৬ দিন পর এবং মামলা দায়ের ৬০ ঘণ্টা পরও সুধারাম থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি। উল্টো ধর্ষকেরা ধর্ষিতার বিরুদ্ধে একই থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ধর্ষিতা ও তার মা বোনকে এলাকা ছাড় করার হুমকি দিচ্ছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ধর্ষিতা গৃহবধূ জানান, ৯ জুন ঢাকা থেকে সোনাপুর বাস স্ট্যান্ডে নামলে তার দুই প্রতিবেশী সিরাজ ও আজিজুল তাকে রিকসায় করে নিয়ে তাদের বাড়ির পেছনের বাগান বাড়ির পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নেশাযুক্ত শরবত খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।
১০ জুন সে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন থাকে। ওই দিনই সুধারাম থানার দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে দেখে যান এবং মামলা রুজু করার আশ্বাস দেন। কিন্তু ৪ দিন পরও কোন মামলা না নেওয়ায় সে ১৩ জুন বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ৬০ ঘণ্টা পরও সুধারাম থানায় তার মামলা রেকর্ড করা হয়নি এবং কোন পুলিশ অফিসার তার সাথে যোগাযোগ করেনি।
এদিকে উল্টো তাকে ধর্ষণকারী সিরাজুলরা তার বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তাকে সহ তার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার পাঁয়তারা করছে।
এ ব্যাপারে সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত করে দেখা হবে এবং ধর্ষকদের জিডির কথা স্বীকার করে সে জানায়, যে কোন নাগরিক থানায় জিডি করতে চাইলে থানা তা গ্রহণ করতে বাধ্য।
ধর্ষিতার মামলা ও রেকর্ড করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রুলিং থাকলে তা কেন ৬০ ঘণ্টা পরও রেকর্ড করা হয়নি জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক আবদুল বাতেন জবাব না দিয়ে বলেন, তিনি মিটিংএ আছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খিসা বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
ধর্ষিতার মা জানান, অত্যাচারীরা তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও এলাকা ছাড়া করার জন্য হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সে তার মেয়ের অত্যাচারের বিচারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলউল্লাহ জানান, পুলিশ থেকে শুক্রবার ভিকটিমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা রিজুইজেশন পাওয়া গেছে। রবিবার ভিকটিমের শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।