শুল্ক-যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব ভারতের

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কটা ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। তার প্রভাব পড়েছে দুই দেশের বাণিজ্য খাতে। ট্রাম্প সরকার স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক চাপায়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাব হিসেবে ২৮টি মার্কিন পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাল নরেন্দ্র মোদী সরকার।

এ ঘটনায় রবিবার থেকেই দাম বাড়বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা আপেল, আখরোট, আমন্ডের মতো ২৮টি পণ্যের। কারণ, ওই পণ্যগুলি এ দেশে পাঠাতে আগের থেকে বেশি শুল্ক দিতে হবে মার্কিন ব্যবসায়ীদের। ভারতের ওপর থেকে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা সরিয়ে নিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

গণমাধ্যম মারফত জানা যায়, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে সক্রিয় হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। যে সব দেশের সঙ্গে তাদের অতিরিক্ত মাত্রায় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরের ৫ জুন ভারতের ওপর থেকে ‘জেনারেলাইজড ট্রেডিং প্রেফারেন্সেস’ (জিএসপি)-এর সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। স্বাভাবিকভাবেই সেই সিদ্ধান্তে অখুশি নয়াদিল্লি। কারণ, ওই সুবিধার আওতায় ৫৬০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য কোনো শুল্ক ছাড়াই রপ্তানি করতে পারত ভারত। সেই সুবিধা হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষুব্ধ মোদী সরকার। পাশাপাশি, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর থেকে চড়া শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারতের দাবি খারিজ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির শুল্ক-যুদ্ধ নয়া মাত্রা পায়।

এই আবহে গত বছর জুনে বেশ কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক প্রায় ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও দু’দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলায় সে নির্দেশ বারবারই পিছিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে জিএসপি-এর সুবিধা প্রত্যাহার করার পর ভারতও আর চুপ করে বসে থাকেনি। এর পর ২৮টি মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করে মোদি সরকার।