চুয়াডাঙ্গায় ২ বছরের মেয়েকে গলাকেটে হত্যা মায়ের

চুয়াডাঙ্গায় স্নেহা নামে দুই বছরের এক শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার সনাতনপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

অভিযুক্ত মা শামীম আরা সাইমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার সনাতনপুর গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার মামুন অর রশিদের পরিবারের সদস্যরা সকালে সবাই ঘুমিয়ে ছিল।

এ সময় পরিবারের সকলের অজান্তে তার স্ত্রী শামীম আরা সাইমা তার দুই বছরের মেয়ে স্নেহাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বাড়ির দুই তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে রান্না ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে শিশু স্নেহাকে।

নিহত স্নেহার বাবা মামুন অর রশিদ জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নেহাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির দুই তলার ছাদের রান্না ঘর থেকে তার গলাকাটা মৃতদেহ দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর দেওয়া হয় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে।

সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্নেহার চাচা মিস্টার জানান, বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তার ভায়ের স্ত্রী শামীমা। এর আগেও স্নেহাকে হত্যার চেষ্টা চালায় শামীমা। তবে সে যাত্রায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি। প্রাথমিকভাবে শামীম আরা সাইমা তার শিশু কন্যাকে হত্যার কথা স্বীকারও করেছেন।

আলমডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান জানান, শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।