পাকিস্তানের টস জিতে ফিল্ডিং বিস্মিত করেছে

ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের রেকর্ড বরাবরই খারাপ। এবারও সেটার অন্যথা হলো না। আমি আগেও বলেছিলাম, ভারত যদি তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে তবে পাকিস্তান পারবে না। শক্তিতে এখন দুটি দলকে একই জায়গায় রাখা যাবে না। ভারত অনেক এগিয়ে গেছে। এই ম্যাচেও তারা সেটা প্রমাণ করেছে। তবে ভারতকে দারুণ একটা শুরু এনে দিতে যেন পাকিস্তানই সহায়তা করেছিল। পাকিস্তান টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল। ভারতের সঙ্গে যেহেতু খেলা, আগে থেকেই জানা ছিল উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কিছুই থাকবে না। পাকিস্তানের বোলিং যেহেতু ভালো আর ব্যাটিংটা অপেক্ষাকৃত দুর্বল, সেহেতু উচিত ছিল আগে ব্যাট করে একটা ভালো পুঁজি নেওয়া। তারপর ভালো বোলিং করে ভারতকে আটকে দেওয়া। টস জিতে তারা কেন আগে ফিল্ডিং নিল সেটা একটা প্রশ্ন। মোহাম্মদ আমির ছাড়া কেউই জায়গায় বল করতে পারেনি। হাসান আলির লাইন-লেন্থ বলতে কিছুই ছিল না। পাকিস্তান বোলারদের লাইন-লেন্থ ঠিক থাকলে কিন্তু যেকোনো একজনকে অন্তত ঠেকানো যেত। ওরা অনেক বেশি শর্ট বল দিয়েছে বলেই ভারতীয়রা রান করতে পেরেছে। স্পিনাররাও শর্ট বল করেছে। ব্যাটসম্যানদের ড্রাইভই খেলাতে পারেনি। ফিল্ডিংও ভালো হয়নি। অনেক মিস ফিল্ডিং করেছে। ভারতীয়রা যেটা রান নয় সেটাকেও রান বানিয়েছে। রোহিত শর্মা খুব সাবলীল খেলেছে। অনেক আক্রমণাত্মক খেলেছে। লোকেশ রাহুল একটু সেøা খেললেও কখনই রানরেটকে ধীরগতির হয়নি। ফলে বিরাট কোহলি অনেক সময় নিয়ে সেট হয়ে খেলতে পেরেছে।

আমি শুধু পাকিস্তানের অধিনায়কের দোষ দেব না। কারণ এই পর্যায়ে যদি কোনো বিভাগেই দলের সবাই পারফর্ম করতে না পারে তবে এক অধিনায়কের কিছুই করার থাকে না। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর প্রতিটি খেলোয়াড়ই একেকজন অধিনায়ক। তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কখন কীভাবে খেলতে হবে সেটা তাদের জানা। কিন্তু এ অঞ্চলের দলগুলো অধিনায়কনির্ভর। তারা অপেক্ষায় থাকে অধিনায়কের নির্দেশনার জন্য। অধিনায়ককে সারাক্ষণই কথা বলতে দেখেছি। বলেছে, অফ স্টাম্পের ওপর বল করতে। কিন্তু বোলাররা সেভাবে পারেনি। উইকেটটা নির্ভেজাল ব্যাটিং উইকেট ছিল। পাকিস্তান বোলারদের কাছ থেকে একটু বেশি আশাই করেছিল তাই হয়তো টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল। কিন্তু বোলাররা নিখুঁত বল করতে পারেনি। ভারতের পেসাররাও কিন্তু অনেক রান দিয়েছে। তবে তারা নিঁখুত বল করেছে। ব্যাটসম্যানদের খেলার মতো ওরকম জায়গা দেয়নি। এই হারের পর আক্ষরিক অর্থে পাকিস্তানের খুব বেশি সম্ভাবনা দেখছি না। তাদের পরের চারটি ম্যাচই জিততে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের দুই সিনিয়র খেলোয়াড় মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক একেবারেই অনুজ্জ্বল ছিল। হাফিজ তো তারপরও বিশ্বকাপে রান করেছে। শোয়েব মালিক তো একেবারেই ভালো করছে না। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে হলে শোয়েব মালিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জ্বলে ওঠা জরুরি।