চলতি অর্থবছরের জন্য ১৫ হাজার ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল’ উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে সেটি পাস হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের সঙ্গে চলতি অর্থবছরের জন্য এই সম্পূরক বাজেটও পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের অর্থ অনুমোদনের জন্য ৫৮টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করা হয়। সম্পূরক বাজেটের ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জননিরাপত্তা বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাকিগুলো সরাসরি ভোটে পাস করা হয়। সব ছাঁটাই প্রস্তাবই কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। এরপর অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০১৯’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এ সময় সম্পূরক বাজেট পাস না করানোর জন্য তুমুল বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বিএনপিদলীয় সদস্যরা।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের হ্রাসকৃত বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমতির কোনো প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কেবল তাদের বরাদ্দেই সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে এই সম্পূরক বাজেট পাস হয়। সম্পূরক বাজেটের মোট ৫৮টি দাবির ওপর ২১৭টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়।
ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, মো. ফখরুল ইমাম, লিয়াকত হোসেন খোকা, পীর ফজলুর রহমান, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ও রওশন আরা মান্নান এবং বিএনপির হারুনুর রশীদ ও গণফোরামের মোকাব্বির খান। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমালোচনার পাশাপাশি সম্পূরক বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার দাবি জানান।
সম্পূরক বাজেটের আওতায় ৩৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বাধিক ২ হাজার ৪৪৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়কে বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬০৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলোÑ স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৮৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৮২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সম্পূরক বাজেটে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি পেয়েছে ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৭ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৮ কোটি ৭ লাখ ৭৮ হাজার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ৩৩ কোটি ৭২ লাখ ৫৭ হাজার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২২৯ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার, সরকারি কর্ম কমিশন ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ৩৪ হাজার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ২ কোটি ৬ লাখ ৪৬ হাজার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৪২৮ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫১ কোটি ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার, আইন ও বিচার বিভাগ ৫৪ কোটি ১২ লাখ ৬৯ হাজার, জননিরাপত্তা বিভাগ ৬৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ২ কোটি ৮৮ লাখ ৩৪ হাজার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ৯৭২ কোটি ৫ লাখ ৮৭ হাজার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৯০ কোটি ৫০ লাখ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪৪ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১১৫ কোটি ৯৩ লাখ ১৮ হাজার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২১ কোটি ৮ লাখ ১৭ হাজার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার, শিল্প মন্ত্রণালয় ২২০ কোটি ৯৭ লাখ ৭৭ হাজার, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৮৭৬ কোটি ১৬ লাখ ১১ হাজার, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৩০৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩ হাজার, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ৬৯ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫৮৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫৯ কোটি ১৩ লাখ ৮৬ হাজার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৬৭৭ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫১ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার, দুর্নীতি দমন কমিশন ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৫৫ কোটি ২৯ লাখ ৪৩ হাজার এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ ৬৭৪ কোটি ৭১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পেয়েছে।