রাস্তার গাছ কেটে নিয়ে গেলেন ইউপি সদস্য

সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে রাস্তার সরকারি বেশ কিছু গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে উদ্ধার করা হয়েছে কিছু কাটা গাছের গুল এবং অন্যান্য গাছের গুলগুলো রাখা হয়েছে স্থানীয় দুটি ‘স’ মিলে। প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে জনপ্রতিনিধিসহ তার লোকজন গাছ কাটার পরও এখনো কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। পরিবেশের ও দেশের সম্পদ হননকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের ছালাখুর গ্রামে পাকা রাস্তার ধারে গত শনিবার ছোট-বড় বেশ কিছু সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ঐ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গাছের ৯টি গুল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বাকি গাছের ৩৮টি গুল ঐ উপজেলার চানঁপাড়ার আব্দুল খালেক ও ইলিয়াস আলীর ‘স’ মিলে রেখেছেন অভিযুক্ত ঐ ইউপি সদস্য।

পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের ছালাখুর এলাকার সুজন, আলামিন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আজিজুল ইসলামসহ আরো অনেকে বলেন, “সরকারি ও দেশের সম্পদ জনপ্রতিনিধি রক্ষা করবে কিন্তু তা না করে তারাই ভক্ষণ করছে। আমরা চাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হোক এবং গাছ যারা কেটেছে তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক। শাস্তি দেখে আর যেন কেউ এরকম কাজ করার সাহস না পায়।”

অভিযুক্ত কুসুম্বা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রানার বক্তব্য নিতে তার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আসছি আসবো বলে দীর্ঘ সময় কালক্ষেপণ করে তিনি দেখা করেননি এবং বক্তব্য দেননি। পরে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন মন্ডল বলেন, “পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু গাছের গুল উদ্ধার করা হয়েছে এবং আমার ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে।”

পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন মন্ডল বলেন, “আমি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রানাসহ দশ-বারো জন লোক রাস্তার বেশ কিছু গাছ কাটছিল। গাছ কাটার বিষয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে চেয়ারম্যানসহ অনেকেই জানে। পরে আমি উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে বিষয়টি জানাই।

তিনি বলেন, “এভাবে প্রকাশ্যে জনপ্রতিনিধিসহ তার লোকজন গাছ কাটার পরও স্থানীয় প্রশাসন এখোনো কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি, এটা দুঃখজনক ঘটনা।”

পাঁচবিবি উপজেলা নিবার্হী অফিসার রাজিবুল আলম মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, “এটা এতো বড় ঘটনা নয়। এ ব্যাপারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”